শেরপুর     রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
 ‍SherpurTimes24

নন্নী গ্রাম হয়ে উঠছে ‘বায়োগ্যাস পল্লির’ মডেল



নন্নী গ্রাম হয়ে উঠছে ‘বায়োগ্যাস পল্লির’ মডেল
ছবি : প্রতিনিধি

দেশজুড়ে যখন জ্বালানি গ্যাসের দামে ভোক্তা নাজেহাল, তখন শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী গ্রাম হয়ে উঠছে ‘বায়োগ্যাস পল্লির’ মডেল। ১ থেকে ৫টি গরু থাকলেই মিটে যাচ্ছে গ্যাসের চাহিদা।

জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী ডেকরাপাড়ার আবুল কালাম আজাদ (৪৫) তার ৬টি গরুর গোবর থেকে প্রতিদিন যে গ্যাস উৎপন্ন করেন, তা দিয়ে তাদের দুটি পরিবারের রান্নার চাহিদা মিটছে। ৬ মাস ধরে তারা এই গ্যাস ব্যবহার করছেন। এতে দুই পরিবারের মাসে আর্থিক খরচ কমেছে ৪ হাজার টাকা।

নন্নী গ্রামের বায়োগ্যাস ব্যবহারকারী নজরুল ইসলাম বলেন, গোবরের গ্যাস ব্যবহার করলে কোনো ঝামেলা নেই, বরং সংসারে টাকা আয় হচ্ছে। ব্যবহার অনুপযোগী গোবর জমিতে জৈবসার হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। সর্বোপরি এটা দেশের গ্যাসের চাহিদা মেটাতে অবদান রাখছে। একই গ্রামের মাদ্রাসাশিক্ষক খোকন মিয়া তার ৩টি গরু থেকে গ্যাস উৎপাদন করছেন। তিনি বলেন, আমরা স্বামী-স্ত্রী দুজনই চাকরি করি। তাই আগে খড়ির চুলায় রান্নায় অনেক ঝামেলা হতো, সময়ও বেশি লাগত। এখন সেই ঝামেলা নেই। গরু থেকে দুধও পাচ্ছি, গ্যাসও পাচ্ছি। অল্প সময়েই রান্না হয়। প্রতি মাসে সিলিন্ডার গ্যাস ক্রয়ের ২ হাজার টাকা আর লাগে না। এটা সঞ্চয় থাকছে, বছরে প্রায় ২৫ হাজার টাকা। এই বায়োগ্যাস গ্রামাঞ্চলের জন্য খুব উপকারী এবং উপযোগী।

স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যমতে, নন্নী ইউনিয়নে একজন আরেকজনেরটা দেখে উৎসাহিত হয়ে প্রায় ৫০টি পরিবার এখন বায়োগ্যাস ব্যবহার করছেন। এদের মধ্যে কেউ কেউ পোলট্রির বিষ্ঠা দিয়েও গ্যাস উৎপাদন করছেন।

এ বিষয়ে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বায়োগ্যাস প্লান্টের উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মনসুর জানান, বাড়িতে ৩টি গরু থাকলে প্রতিদিন ৪০-৫০ কেজি গোবর পাওয়া যায়। প্রতি ২২ কেজি গোবর থেকে ১ কেজি গ্যাস উৎপাদন হয়। প্রতিদিন যা একটি পরিবারের চাহিদা অনায়াসে মিটিয়ে দেয়। তিনি জানান, বায়োগ্যাস এলাকাটিতে খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

জানা যায়, সরকারের যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আওতায় ‘ইমপ্যাক্ট প্রকল্প ফেজ-৩’-এর মাধ্যমে শেরপুর জেলার ৫টি উপজেলায় মোট ৮৫টি বায়োগ্যাস প্লান্ট করা হচ্ছে। এর মধ্যে নালিতাবাড়ীর নন্নী ইউনিয়নে প্রকল্পের আওতায় ৩০টি প্লান্ট করা হয়েছে এবং নন্নী ইউনিয়নকে বায়োগ্যাস পল্লি ঘোষণার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিষয়টি সম্পর্কে শেরপুর জেলার যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক হারুনর রশীদ বলেন, এটি সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার একটি অংশ। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে গ্রামীণ এলাকায় জ্বালানি গ্যাসের চাহিদা পূরণ হবে বলে আশা করছি। আগামী ১ নভেম্বর জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৬৪ জেলায় একটি করে বায়োগ্যাস প্লান্ট উদ্বোধনের ঘোষণা দেবেন। এরই অংশ হিসেবে শেরপুরের নন্নী গ্রামের বায়োগ্যাস প্লান্টটিও উদ্বোধন করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

 ‍SherpurTimes24

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬


নন্নী গ্রাম হয়ে উঠছে ‘বায়োগ্যাস পল্লির’ মডেল

প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

দেশজুড়ে যখন জ্বালানি গ্যাসের দামে ভোক্তা নাজেহাল, তখন শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী গ্রাম হয়ে উঠছে ‘বায়োগ্যাস পল্লির’ মডেল। ১ থেকে ৫টি গরু থাকলেই মিটে যাচ্ছে গ্যাসের চাহিদা।

জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী ডেকরাপাড়ার আবুল কালাম আজাদ (৪৫) তার ৬টি গরুর গোবর থেকে প্রতিদিন যে গ্যাস উৎপন্ন করেন, তা দিয়ে তাদের দুটি পরিবারের রান্নার চাহিদা মিটছে। ৬ মাস ধরে তারা এই গ্যাস ব্যবহার করছেন। এতে দুই পরিবারের মাসে আর্থিক খরচ কমেছে ৪ হাজার টাকা।

নন্নী গ্রামের বায়োগ্যাস ব্যবহারকারী নজরুল ইসলাম বলেন, গোবরের গ্যাস ব্যবহার করলে কোনো ঝামেলা নেই, বরং সংসারে টাকা আয় হচ্ছে। ব্যবহার অনুপযোগী গোবর জমিতে জৈবসার হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। সর্বোপরি এটা দেশের গ্যাসের চাহিদা মেটাতে অবদান রাখছে। একই গ্রামের মাদ্রাসাশিক্ষক খোকন মিয়া তার ৩টি গরু থেকে গ্যাস উৎপাদন করছেন। তিনি বলেন, আমরা স্বামী-স্ত্রী দুজনই চাকরি করি। তাই আগে খড়ির চুলায় রান্নায় অনেক ঝামেলা হতো, সময়ও বেশি লাগত। এখন সেই ঝামেলা নেই। গরু থেকে দুধও পাচ্ছি, গ্যাসও পাচ্ছি। অল্প সময়েই রান্না হয়। প্রতি মাসে সিলিন্ডার গ্যাস ক্রয়ের ২ হাজার টাকা আর লাগে না। এটা সঞ্চয় থাকছে, বছরে প্রায় ২৫ হাজার টাকা। এই বায়োগ্যাস গ্রামাঞ্চলের জন্য খুব উপকারী এবং উপযোগী।

স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যমতে, নন্নী ইউনিয়নে একজন আরেকজনেরটা দেখে উৎসাহিত হয়ে প্রায় ৫০টি পরিবার এখন বায়োগ্যাস ব্যবহার করছেন। এদের মধ্যে কেউ কেউ পোলট্রির বিষ্ঠা দিয়েও গ্যাস উৎপাদন করছেন।

এ বিষয়ে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বায়োগ্যাস প্লান্টের উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মনসুর জানান, বাড়িতে ৩টি গরু থাকলে প্রতিদিন ৪০-৫০ কেজি গোবর পাওয়া যায়। প্রতি ২২ কেজি গোবর থেকে ১ কেজি গ্যাস উৎপাদন হয়। প্রতিদিন যা একটি পরিবারের চাহিদা অনায়াসে মিটিয়ে দেয়। তিনি জানান, বায়োগ্যাস এলাকাটিতে খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

জানা যায়, সরকারের যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আওতায় ‘ইমপ্যাক্ট প্রকল্প ফেজ-৩’-এর মাধ্যমে শেরপুর জেলার ৫টি উপজেলায় মোট ৮৫টি বায়োগ্যাস প্লান্ট করা হচ্ছে। এর মধ্যে নালিতাবাড়ীর নন্নী ইউনিয়নে প্রকল্পের আওতায় ৩০টি প্লান্ট করা হয়েছে এবং নন্নী ইউনিয়নকে বায়োগ্যাস পল্লি ঘোষণার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিষয়টি সম্পর্কে শেরপুর জেলার যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক হারুনর রশীদ বলেন, এটি সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার একটি অংশ। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে গ্রামীণ এলাকায় জ্বালানি গ্যাসের চাহিদা পূরণ হবে বলে আশা করছি। আগামী ১ নভেম্বর জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৬৪ জেলায় একটি করে বায়োগ্যাস প্লান্ট উদ্বোধনের ঘোষণা দেবেন। এরই অংশ হিসেবে শেরপুরের নন্নী গ্রামের বায়োগ্যাস প্লান্টটিও উদ্বোধন করা হবে।


 ‍SherpurTimes24


কপিরাইট © ২০২৬ ‍SherpurTimes24 । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত