শেরপুর     মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
 ‍SherpurTimes24

শেরপুরে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত অর্ধশতাধিক, হাসপাতালে ভর্তি ৩



শেরপুরে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত অর্ধশতাধিক, হাসপাতালে ভর্তি ৩
ছবি : প্রতিনিধি

শেরপুরে পাগলা কুকুরের কামড়ে নারী ও শিশুসহ অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। আজ ৩ নভেম্বর মঙ্গলবার সকালে সদর উপজেলার ভাতশালা ইউনিয়নের সাপমারী ও লছমনপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর দড়িপাড়াসহ কয়েকটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে হঠাৎ পাগলা কুকুরের এমন বেপরোয়া আক্রমণে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।


জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল থেকে হঠাৎ করেই একটি পাগলা কুকুর সাপমারী ও কৃষ্ণপুর দড়িপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় অস্বাভাবিকভাবে ছোটাছুটি শুরু করে। এসময় কুকুরটি সামনে যাকে পায় তাকেই কামড় ও আঁচড় দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে আহতদের উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। মঙ্গলবার বেলা দেড়টা পর্যন্ত কুকুরে কামড় দেওয়া ৪৮ জন ব্যক্তিকে জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এর মধ্যে গুরুতর অবস্থায় ৩ জনকে ভর্তি রাখা হয়েছে। এরা হচ্ছেন সদর উপজেলার সাপমারী এলাকার বাহেজ উদ্দিন (৭০), কৃষ্ণপুর দড়িপাড়া এলাকার মামুন (৩২) ও শেরীপাড়া এলাকার আবুল হোসেন (৫০)।

হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, কুকুরের কামড় ও আঁচড়ে রক্তাক্ত হওয়া ক্ষতবিক্ষত রোগীদের ক্ষতস্থান সাবান-পানি দিয়ে ধুয়ে দ্রুত জলাতঙ্কের প্রতিষেধক দেওয়া হচ্ছে। তবে জনবল সংকটের কারণে একজন সেবিকা (নার্স) ভ্যাকসিন দিচ্ছেন। এতে বিলম্ব হওয়ায় লাইনে আনসার সদস্যদের সাথে রোগীদের হট্টগোল লেগে যাচ্ছে।

চিকিৎসা নিতে আসা চার বছর বয়সী শিশুর স্বজন মো. আব্দুল আলীম বলেন, আমার বাচ্চাকে ভোর ছয়টায় কামড়িয়েছে। সাতটায় এখানে এসেছি। কিন্তু বেলা এগারোটা পার হয়ে গেছে, তবুও ভ্যাকসিন পাইনি। আর আনসার সদস্যরা আমাদের একটু পর পর বের করে দিচ্ছেন। একই অভিযোগ করেন মো. রোকন নামের আরেক রোগীর স্বজন। তিনি জানান, বাড়ির সামনে মেয়ে শান্তভাবে দাঁড়িয়েছিল। এমন সময় হঠাৎ পেছন থেকে এসে কুকুরটি পিঠে আঁছড় দেয়। এখানে ভ্যাকসিন দিতে দেরি হচ্ছে অনেক।

কৃষ্ণপুর দড়িপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সেকান্দর আলী বলেন, দ্রুত কুকুরটিকে চিহ্নিত করে আটক বা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে গ্রামে লোকজনের চলাচল অনিরাপদ হয়ে পড়বে। বিশেষ করে স্কুলগামী বাচ্চা ও কৃষকদের।

এদিকে কুকুরের কামড়ে আহত ৪৮ জনকেই ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে এবং হাসপাতালে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন রয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের সহকারী রেজিস্টার ডা. একেএম মাহমুদুল হাসান সোহাগ। তিনি বলেন, সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত পাগলা কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত ৪৮ জন রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রত্যেককেই ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে।। তাদের মধ্যে ৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। বাকীদের চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালে ভ্যাকসিনের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে।

শেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, সবাইকে সরকারের দেওয়া ভ্যাকসিন বিনামূল্যে প্রদান করা হয়েছে। আমাদের জনবল সংকট। তাই লাইন একটু দীর্ঘ হয়েছে। সবাইকেই ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

 ‍SherpurTimes24

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


শেরপুরে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত অর্ধশতাধিক, হাসপাতালে ভর্তি ৩

প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

শেরপুরে পাগলা কুকুরের কামড়ে নারী ও শিশুসহ অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। আজ ৩ নভেম্বর মঙ্গলবার সকালে সদর উপজেলার ভাতশালা ইউনিয়নের সাপমারী ও লছমনপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর দড়িপাড়াসহ কয়েকটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে হঠাৎ পাগলা কুকুরের এমন বেপরোয়া আক্রমণে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।


জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল থেকে হঠাৎ করেই একটি পাগলা কুকুর সাপমারী ও কৃষ্ণপুর দড়িপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় অস্বাভাবিকভাবে ছোটাছুটি শুরু করে। এসময় কুকুরটি সামনে যাকে পায় তাকেই কামড় ও আঁচড় দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে আহতদের উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। মঙ্গলবার বেলা দেড়টা পর্যন্ত কুকুরে কামড় দেওয়া ৪৮ জন ব্যক্তিকে জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এর মধ্যে গুরুতর অবস্থায় ৩ জনকে ভর্তি রাখা হয়েছে। এরা হচ্ছেন সদর উপজেলার সাপমারী এলাকার বাহেজ উদ্দিন (৭০), কৃষ্ণপুর দড়িপাড়া এলাকার মামুন (৩২) ও শেরীপাড়া এলাকার আবুল হোসেন (৫০)।

হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, কুকুরের কামড় ও আঁচড়ে রক্তাক্ত হওয়া ক্ষতবিক্ষত রোগীদের ক্ষতস্থান সাবান-পানি দিয়ে ধুয়ে দ্রুত জলাতঙ্কের প্রতিষেধক দেওয়া হচ্ছে। তবে জনবল সংকটের কারণে একজন সেবিকা (নার্স) ভ্যাকসিন দিচ্ছেন। এতে বিলম্ব হওয়ায় লাইনে আনসার সদস্যদের সাথে রোগীদের হট্টগোল লেগে যাচ্ছে।

চিকিৎসা নিতে আসা চার বছর বয়সী শিশুর স্বজন মো. আব্দুল আলীম বলেন, আমার বাচ্চাকে ভোর ছয়টায় কামড়িয়েছে। সাতটায় এখানে এসেছি। কিন্তু বেলা এগারোটা পার হয়ে গেছে, তবুও ভ্যাকসিন পাইনি। আর আনসার সদস্যরা আমাদের একটু পর পর বের করে দিচ্ছেন। একই অভিযোগ করেন মো. রোকন নামের আরেক রোগীর স্বজন। তিনি জানান, বাড়ির সামনে মেয়ে শান্তভাবে দাঁড়িয়েছিল। এমন সময় হঠাৎ পেছন থেকে এসে কুকুরটি পিঠে আঁছড় দেয়। এখানে ভ্যাকসিন দিতে দেরি হচ্ছে অনেক।

কৃষ্ণপুর দড়িপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সেকান্দর আলী বলেন, দ্রুত কুকুরটিকে চিহ্নিত করে আটক বা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে গ্রামে লোকজনের চলাচল অনিরাপদ হয়ে পড়বে। বিশেষ করে স্কুলগামী বাচ্চা ও কৃষকদের।

এদিকে কুকুরের কামড়ে আহত ৪৮ জনকেই ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে এবং হাসপাতালে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন রয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের সহকারী রেজিস্টার ডা. একেএম মাহমুদুল হাসান সোহাগ। তিনি বলেন, সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত পাগলা কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত ৪৮ জন রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রত্যেককেই ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে।। তাদের মধ্যে ৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। বাকীদের চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালে ভ্যাকসিনের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে।

শেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, সবাইকে সরকারের দেওয়া ভ্যাকসিন বিনামূল্যে প্রদান করা হয়েছে। আমাদের জনবল সংকট। তাই লাইন একটু দীর্ঘ হয়েছে। সবাইকেই ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে।


 ‍SherpurTimes24


কপিরাইট © ২০২৬ ‍SherpurTimes24 । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত