চলতি বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় শেরপুরে মটরশুঁটির বাম্পার ফলন হয়েছে। ভালো ফলন ও লাভজনক হওয়ায় শেরপুরের চরাঞ্চলের কৃষকরা মটরশুঁটি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
কৃষি বিভাগ জানায়, শেরপুরের চরাঞ্চলের মাটি মটরশুঁটি চাষের জন্য বেশ উপযোগী। হাইব্রিড জাতের ‘দেবগিরি’ মটরশুঁটি চাষে রোগবালাই তুলনামূলক কম হওয়ায় কীটনাশকের প্রয়োজন হয় না। বীজ রোপণের ৬০-৭০ দিনের মধ্যেই ফসল সংগ্রহ করা যায়। অক্টোবর মাসে জমি চাষ করে মটরশুঁটির বীজ বপন করা হয়। বিঘাপ্রতি ১২ কেজি বীজ দরকার। জমিতে শুধু টিএসপি ও পটাশ সার প্রয়োজন। ক্ষেত্রবিশেষে গোড়াপচা ও পোকাবিরোধী কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়। সেচের প্রয়োজন হয় না বললেই চলে। তিন দফায় গাছ থেকে মটরশুঁটি সংগ্রহ করা হয়। ‘দেবগিরি’ জাতের মটরশুঁটির বিঘাপ্রতি গড় ফলন ৪০-৫০ মণ। বাজারে প্রতি মণ মটরশুঁটি বিক্রি হচ্ছে আড়াই থেকে ৩ হাজার টাকা।
সদর উপজেলার চরখারচর গ্রামের কৃষক হারেজ মিয়া কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় ১ বিঘা জমিতে মটরশুঁটি আবাদ করেছিলেন। এরই মধ্যে ফসল ঘরে তুলেছেন। হারেজ মিয়া জানান, তার খরচ হয়েছে ৪-৫ হাজার টাকা। বিক্রি করেছেন ২৫ হাজার টাকা। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় শেরপুর সদরে মটরশুঁটির বাম্পার ফলন হয়েছে।
কামারের চরের কৃষক জুলহাস উদ্দিন ২০ শতাংশ জমিতে মটরশুঁটি চাষ করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘মটরশুঁটি তুলে ওই জমিতে পাট চাষ করবো। মটরশুঁটি গাছের ডালপালা ও শেকড় মাটির উর্বরতা শক্তি বাড়ায়। তাই পরের ফসলে সার কম লাগবে। সামনের মৌসুমে আরও বেশি জমিতে মটরশুঁটি চাষ করবো।’
কৃষক আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘হালচাষ করে এবং হালচাষ ছাড়া দুই ভাবেই মটরশুঁটি আবাদ হয়। আগাম ফলন ওঠার কারণে আমরা একই জমিতে ভুট্টা চাষের সুযোগ পাই। তাই চরাঞ্চলে দিনদিন মটরশুঁটির আবাদ বাড়ছে।’
শেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘মটরশুঁটি চাষে তুলনামূলক খরচ কম, লাভ বেশি। তাই কৃষকেরা এই ফসলে দিনদিন আগ্রহী হয়ে উঠছেন। এ মৌসুমে জেলায় মটরশুঁটির বাম্পার ফলন হয়েছে। আমাদের নিয়মিত প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।’

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬
চলতি বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় শেরপুরে মটরশুঁটির বাম্পার ফলন হয়েছে। ভালো ফলন ও লাভজনক হওয়ায় শেরপুরের চরাঞ্চলের কৃষকরা মটরশুঁটি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
কৃষি বিভাগ জানায়, শেরপুরের চরাঞ্চলের মাটি মটরশুঁটি চাষের জন্য বেশ উপযোগী। হাইব্রিড জাতের ‘দেবগিরি’ মটরশুঁটি চাষে রোগবালাই তুলনামূলক কম হওয়ায় কীটনাশকের প্রয়োজন হয় না। বীজ রোপণের ৬০-৭০ দিনের মধ্যেই ফসল সংগ্রহ করা যায়। অক্টোবর মাসে জমি চাষ করে মটরশুঁটির বীজ বপন করা হয়। বিঘাপ্রতি ১২ কেজি বীজ দরকার। জমিতে শুধু টিএসপি ও পটাশ সার প্রয়োজন। ক্ষেত্রবিশেষে গোড়াপচা ও পোকাবিরোধী কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়। সেচের প্রয়োজন হয় না বললেই চলে। তিন দফায় গাছ থেকে মটরশুঁটি সংগ্রহ করা হয়। ‘দেবগিরি’ জাতের মটরশুঁটির বিঘাপ্রতি গড় ফলন ৪০-৫০ মণ। বাজারে প্রতি মণ মটরশুঁটি বিক্রি হচ্ছে আড়াই থেকে ৩ হাজার টাকা।
সদর উপজেলার চরখারচর গ্রামের কৃষক হারেজ মিয়া কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় ১ বিঘা জমিতে মটরশুঁটি আবাদ করেছিলেন। এরই মধ্যে ফসল ঘরে তুলেছেন। হারেজ মিয়া জানান, তার খরচ হয়েছে ৪-৫ হাজার টাকা। বিক্রি করেছেন ২৫ হাজার টাকা। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় শেরপুর সদরে মটরশুঁটির বাম্পার ফলন হয়েছে।
কামারের চরের কৃষক জুলহাস উদ্দিন ২০ শতাংশ জমিতে মটরশুঁটি চাষ করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘মটরশুঁটি তুলে ওই জমিতে পাট চাষ করবো। মটরশুঁটি গাছের ডালপালা ও শেকড় মাটির উর্বরতা শক্তি বাড়ায়। তাই পরের ফসলে সার কম লাগবে। সামনের মৌসুমে আরও বেশি জমিতে মটরশুঁটি চাষ করবো।’
কৃষক আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘হালচাষ করে এবং হালচাষ ছাড়া দুই ভাবেই মটরশুঁটি আবাদ হয়। আগাম ফলন ওঠার কারণে আমরা একই জমিতে ভুট্টা চাষের সুযোগ পাই। তাই চরাঞ্চলে দিনদিন মটরশুঁটির আবাদ বাড়ছে।’
শেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘মটরশুঁটি চাষে তুলনামূলক খরচ কম, লাভ বেশি। তাই কৃষকেরা এই ফসলে দিনদিন আগ্রহী হয়ে উঠছেন। এ মৌসুমে জেলায় মটরশুঁটির বাম্পার ফলন হয়েছে। আমাদের নিয়মিত প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।’

আপনার মতামত লিখুন