শেরপুর     শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
 ‍SherpurTimes24

টেকসই বাঁধ না থাকায় ভোগাই নদীর ভাঙনে ভোগান্তি



টেকসই বাঁধ না থাকায় ভোগাই নদীর ভাঙনে ভোগান্তি
ছবি: প্রতিনিধি

পাহাড়ি খরস্রোতা ভোগাই নদীর অব্যাহত ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন শেরপুরের নকলা উপজেলার বেনীরগোপ গ্রামের মানুষ।

অবৈধ বালু উত্তোলন আর বর্ষাকালে পাহাড়ি ঢলে নদীতে স্রোত বেড়ে গেলে তীরবর্তী এলাকায় তীব্র ভাঙন দেখা দেয়। এতে করে ফি-বছরই ঘরবাড়ি, আবাদি জমি ও গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে পারিবারিক কবরস্থান, মসজিদ, দোকান পাট, বসতবাড়িসহ কয়েক একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন চললেও নদীতীর রক্ষাবাঁধ বা স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণে দায়িত্বশীল কোনো দপ্তরই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। গত কয়েক বছরে নদীর পূর্ব তীরের অন্তত ৫০০ মিটার এলাকা ভেঙে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।


ভুক্তভোগী আব্দুল ওয়াদুদ ও হাবিবুর রহমানসহ এলাকাবাসী জানান, তাদের বাপ-দাদার ভিটেমাটি একে একে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ভাঙন রোধে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জোর দাবি স্থানীয়দের। এদিকে ভাঙনকবলিত এলাকাজুড়ে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আসন্ন বর্ষায় আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে সাড়ে পাঁচ টন জিআর চাল বরাদ্দ পেয়ে স্থানীয়ভাবে কিছু অংশে প্যালাসাইডিং ও জিওটেক্স বালুর বস্তা ফেলা হলেও কাজটি ও সম্পূর্ণ করা হয়নি।

নকলা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন শামীম বলেন, তাদের দপ্তরের মাধ্যমে স্থায়ী নদীরক্ষা বাঁধ নির্মাণ সম্ভব নয়। তাই সীমিত বরাদ্দ দিয়ে কিছু অংশে অস্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নুরে আলম তালুকদার ভুট্টো বলেন, "আমার ইউনিয়নের এই গ্রামটি ভোগাই নদীর ভাঙনের ফলে বিলীন হতে বসেছে। আমি বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। 

নকলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহাঙ্গীর আলম জানান, 'বেনীরগোপ ও পিছলাকুড়ি এলাকার ভাঙন পরিস্থিতি পরিদর্শন করে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভাতেও বিষয়টি একাধিকবার উপস্থাপন করা হয়েছে। ভাঙন রোধে দ্রুত একটি টেকসই প্রকল্প গ্রহণ জরুরি বলে তিনি মনে করেন।'

 উল্লেখ্য, নকলা ও নালিতাবাড়ী উপজেলার ভোগাই নদীর ভাঙনকবলিত এলাকাসমূহে স্থায়ী টেকসই বাঁধ নির্মাণের জন্য শেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই জোর দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

 ‍SherpurTimes24

শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬


টেকসই বাঁধ না থাকায় ভোগাই নদীর ভাঙনে ভোগান্তি

প্রকাশের তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

পাহাড়ি খরস্রোতা ভোগাই নদীর অব্যাহত ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন শেরপুরের নকলা উপজেলার বেনীরগোপ গ্রামের মানুষ।

অবৈধ বালু উত্তোলন আর বর্ষাকালে পাহাড়ি ঢলে নদীতে স্রোত বেড়ে গেলে তীরবর্তী এলাকায় তীব্র ভাঙন দেখা দেয়। এতে করে ফি-বছরই ঘরবাড়ি, আবাদি জমি ও গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে পারিবারিক কবরস্থান, মসজিদ, দোকান পাট, বসতবাড়িসহ কয়েক একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন চললেও নদীতীর রক্ষাবাঁধ বা স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণে দায়িত্বশীল কোনো দপ্তরই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। গত কয়েক বছরে নদীর পূর্ব তীরের অন্তত ৫০০ মিটার এলাকা ভেঙে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।


ভুক্তভোগী আব্দুল ওয়াদুদ ও হাবিবুর রহমানসহ এলাকাবাসী জানান, তাদের বাপ-দাদার ভিটেমাটি একে একে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ভাঙন রোধে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জোর দাবি স্থানীয়দের। এদিকে ভাঙনকবলিত এলাকাজুড়ে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আসন্ন বর্ষায় আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে সাড়ে পাঁচ টন জিআর চাল বরাদ্দ পেয়ে স্থানীয়ভাবে কিছু অংশে প্যালাসাইডিং ও জিওটেক্স বালুর বস্তা ফেলা হলেও কাজটি ও সম্পূর্ণ করা হয়নি।

নকলা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন শামীম বলেন, তাদের দপ্তরের মাধ্যমে স্থায়ী নদীরক্ষা বাঁধ নির্মাণ সম্ভব নয়। তাই সীমিত বরাদ্দ দিয়ে কিছু অংশে অস্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নুরে আলম তালুকদার ভুট্টো বলেন, "আমার ইউনিয়নের এই গ্রামটি ভোগাই নদীর ভাঙনের ফলে বিলীন হতে বসেছে। আমি বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। 

নকলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহাঙ্গীর আলম জানান, 'বেনীরগোপ ও পিছলাকুড়ি এলাকার ভাঙন পরিস্থিতি পরিদর্শন করে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভাতেও বিষয়টি একাধিকবার উপস্থাপন করা হয়েছে। ভাঙন রোধে দ্রুত একটি টেকসই প্রকল্প গ্রহণ জরুরি বলে তিনি মনে করেন।'

 উল্লেখ্য, নকলা ও নালিতাবাড়ী উপজেলার ভোগাই নদীর ভাঙনকবলিত এলাকাসমূহে স্থায়ী টেকসই বাঁধ নির্মাণের জন্য শেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই জোর দাবি জানিয়েছেন।


 ‍SherpurTimes24


কপিরাইট © ২০২৬ ‍SherpurTimes24 । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত