শেরপুর     মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
 ‍SherpurTimes24

জরাজীর্ণ ভবনে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম : নাগরিক সেবা ব্যাহত



জরাজীর্ণ ভবনে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম : নাগরিক সেবা ব্যাহত
ছবি: প্রতিনিধি

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার ৪ নং নয়াবিল ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম চলছে ছোট একটি জরাজীর্ণ ভবনে। এই ভবনে সব কাজ করতে গিয়ে মুখ থুবড়ে পড়েছে ইউনিয়ন পরিষদের সার্বিক কার্যক্রম।  কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ মানুষ। ত্রাণসহ উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে বিপাকে পড়ছেন জনপ্রতিনিধিরা। নয়াবিল ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটি জড়াজীর্ণ টিনশেডের একটি আধাপাকা ঘর। এমন ঝুঁকিপূর্ণ ছোট একটি অবকাঠামোর মধ্যে চলছে নয়াবিল ইউনিয়ন পরিষদের অর্ধ লক্ষাধিক মানুষের নাগরিক সেবা প্রদানের কার্যক্রম।

স্থানীয়রা জানান, ১৯৮৩ সালে এই ভবনটিতে নয়াবিল ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম শুরু হয় । দীর্ঘদিনের পুরানো  অবকাঠামোর মধ্যে চলছে ইউনিয়ন পরিষদের সার্বিক কার্যক্রম। ঝুঁকিপূর্ণ ইটের দেওয়াল ও টিনের চালায় মরিচা পড়ে অনেক জায়গায় ছিদ্র হয়ে গেছে। মাঝে মধ্যেই দেয়ালের পলেস্তরা খসে পড়ছে আর বৃষ্টি হলেই টিনের চালের ছিদ্র দিয়ে কক্ষে পানি পড়ে।


স্থানীয় বাসিন্দা সামিউল ইসলাম জানান, জোরে বাতাস বইলে ভয় হয়। কখন না জানি টিনের চালা উড়ে যায় কিংবা ঘরের মেয়াদোত্তীর্ণ ইটের দেয়াল ভেঙে পড়ে। এই ভবনে এখন কোনো কাজ সঠিকভাবে করা যায় না। তবে বিকল্প ভবন না থাকায় বাধ্য হয়ে ছোট ওই ভবনের ভেতরেই চলছে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম, চেয়ারম্যানসহ ইউপি সদস্যদের বসা, উন্নয়ন কার্যক্রমের সিদ্ধান্ত গ্রহণ, ইউপি সচিবের দাপ্তরিক কাজ ও ডিজিটাল তথ্য সেবাসহ সকল কার্যক্রম। একটি কাজ করতে গিয়ে বন্ধ রাখতে হচ্ছে অন্য একটি সেবা। আর ভবনের ভেতরে ১০ থেকে ১৫ জন লোকের বেশি ধারণ ক্ষমতা না থাকায় খোলা আকাশের নিচে রোদ বৃষ্টিতে ভিজে দাঁড়িয়ে প্রয়োজনীয় কাজ সারতে হচ্ছে এই ইউনিয়নের জনগণকে। এতে ব্যাহত হচ্ছে জনগণের কাঙ্খিত সেবা। জনগণের পাশাপাশি ভবন না থাকায় বিপাকে পড়েছেন জনপ্রতিনিধিসহ ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও। ভবনের অভাবে সরকারি বরাদ্দকৃত বিভিন্ন ত্রাণ, পরিষদের ব্যবহৃত কম্পিউটারসহ বিভিন্ন দরকারি কাগজপত্র বৃষ্টিতে ভিজে ও যত্রতত্র রাখার কারণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথিও চুরি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নয়াবিল ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. শরীফ আল ফায়েদ জানান, বৃষ্টি এলে এই ভবনের চাল দিয়ে পানি পড়ে গুরুত্বপূর্ণ কাগজ ও আসবাবপত্র ভিজে যায়। এই জরাজীর্ণ ভবনে একটি ইউনিয়নের সব কার্যক্রম চালাতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে।

নয়াবিল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজান জানান, এই ইউনিয়ন পরিষদের দাপ্তরিক কাজের সমস্যার পাশাপাশি ভিজিডি ও ভিজিএফসহ সরকারি বিভিন্ন ত্রাণ বিতরণে সমস্যায় পড়তে হয়। পরিষদের গোডাউনে চালের ধারণ ক্ষমতা না থাকায় পাশের স্কুল ঘরে বা অন্য কোথাও রাখতে হয়। ইউপি সদস্যদের নিয়ে স্বাচ্ছন্দে মিটিং করার মতো পরিবেশ নেই। পাশাপাশি গ্রাম আদালত পরিচালনা করার মতো জায়গা নেই। তাই দ্রুত পরিষদের দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা করার জন্য নতুন ভবন নির্মাণ করা প্রয়োজন।

আপনার মতামত লিখুন

 ‍SherpurTimes24

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬


জরাজীর্ণ ভবনে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম : নাগরিক সেবা ব্যাহত

প্রকাশের তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার ৪ নং নয়াবিল ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম চলছে ছোট একটি জরাজীর্ণ ভবনে। এই ভবনে সব কাজ করতে গিয়ে মুখ থুবড়ে পড়েছে ইউনিয়ন পরিষদের সার্বিক কার্যক্রম।  কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ মানুষ। ত্রাণসহ উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে বিপাকে পড়ছেন জনপ্রতিনিধিরা। নয়াবিল ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটি জড়াজীর্ণ টিনশেডের একটি আধাপাকা ঘর। এমন ঝুঁকিপূর্ণ ছোট একটি অবকাঠামোর মধ্যে চলছে নয়াবিল ইউনিয়ন পরিষদের অর্ধ লক্ষাধিক মানুষের নাগরিক সেবা প্রদানের কার্যক্রম।

স্থানীয়রা জানান, ১৯৮৩ সালে এই ভবনটিতে নয়াবিল ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম শুরু হয় । দীর্ঘদিনের পুরানো  অবকাঠামোর মধ্যে চলছে ইউনিয়ন পরিষদের সার্বিক কার্যক্রম। ঝুঁকিপূর্ণ ইটের দেওয়াল ও টিনের চালায় মরিচা পড়ে অনেক জায়গায় ছিদ্র হয়ে গেছে। মাঝে মধ্যেই দেয়ালের পলেস্তরা খসে পড়ছে আর বৃষ্টি হলেই টিনের চালের ছিদ্র দিয়ে কক্ষে পানি পড়ে।


স্থানীয় বাসিন্দা সামিউল ইসলাম জানান, জোরে বাতাস বইলে ভয় হয়। কখন না জানি টিনের চালা উড়ে যায় কিংবা ঘরের মেয়াদোত্তীর্ণ ইটের দেয়াল ভেঙে পড়ে। এই ভবনে এখন কোনো কাজ সঠিকভাবে করা যায় না। তবে বিকল্প ভবন না থাকায় বাধ্য হয়ে ছোট ওই ভবনের ভেতরেই চলছে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম, চেয়ারম্যানসহ ইউপি সদস্যদের বসা, উন্নয়ন কার্যক্রমের সিদ্ধান্ত গ্রহণ, ইউপি সচিবের দাপ্তরিক কাজ ও ডিজিটাল তথ্য সেবাসহ সকল কার্যক্রম। একটি কাজ করতে গিয়ে বন্ধ রাখতে হচ্ছে অন্য একটি সেবা। আর ভবনের ভেতরে ১০ থেকে ১৫ জন লোকের বেশি ধারণ ক্ষমতা না থাকায় খোলা আকাশের নিচে রোদ বৃষ্টিতে ভিজে দাঁড়িয়ে প্রয়োজনীয় কাজ সারতে হচ্ছে এই ইউনিয়নের জনগণকে। এতে ব্যাহত হচ্ছে জনগণের কাঙ্খিত সেবা। জনগণের পাশাপাশি ভবন না থাকায় বিপাকে পড়েছেন জনপ্রতিনিধিসহ ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও। ভবনের অভাবে সরকারি বরাদ্দকৃত বিভিন্ন ত্রাণ, পরিষদের ব্যবহৃত কম্পিউটারসহ বিভিন্ন দরকারি কাগজপত্র বৃষ্টিতে ভিজে ও যত্রতত্র রাখার কারণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথিও চুরি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নয়াবিল ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. শরীফ আল ফায়েদ জানান, বৃষ্টি এলে এই ভবনের চাল দিয়ে পানি পড়ে গুরুত্বপূর্ণ কাগজ ও আসবাবপত্র ভিজে যায়। এই জরাজীর্ণ ভবনে একটি ইউনিয়নের সব কার্যক্রম চালাতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে।

নয়াবিল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজান জানান, এই ইউনিয়ন পরিষদের দাপ্তরিক কাজের সমস্যার পাশাপাশি ভিজিডি ও ভিজিএফসহ সরকারি বিভিন্ন ত্রাণ বিতরণে সমস্যায় পড়তে হয়। পরিষদের গোডাউনে চালের ধারণ ক্ষমতা না থাকায় পাশের স্কুল ঘরে বা অন্য কোথাও রাখতে হয়। ইউপি সদস্যদের নিয়ে স্বাচ্ছন্দে মিটিং করার মতো পরিবেশ নেই। পাশাপাশি গ্রাম আদালত পরিচালনা করার মতো জায়গা নেই। তাই দ্রুত পরিষদের দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা করার জন্য নতুন ভবন নির্মাণ করা প্রয়োজন।


 ‍SherpurTimes24


কপিরাইট © ২০২৬ ‍SherpurTimes24 । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত