টানা চারদিন ধরে কালবৈশাখী ঝড়, বৃষ্টি ও বজ্রপাতের প্রভাবে শেরপুর জেলার প্রায় সব উপজেলায় মারাত্মক বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। গাছের ডালপালা ভেঙে বৈদ্যুতিক লাইনের ওপর পড়ায় সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এতে জেলার শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার অন্তত ৫০ থেকে ৬০টি গ্রামের মানুষ টানা ৭২ থেকে ৯৬ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ এপ্রিল রাত থেকে শুরু হওয়া ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাতের পর থেকেই বিশেষ করে পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। অনেক এলাকায় টানা ৮০ থেকে ৯৬ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ নেই। এসব এলাকার বেশিরভাগ সংযোগ পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন।
ঝিনাইগাতী উপজেলার নওকুচি, গান্ধিগাঁও, সন্ধ্যাকুড়া, হালচাটি, কালিবাড়ি, তাওয়াকুচা, দারিয়াপাড়া, কুচনিপাড়া ও হালুহাটি গ্রামসহ বহু এলাকায় তিন থেকে চারদিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। একই চিত্র শ্রীবরদী উপজেলার রানিশিমুল, সিংগাবর্ণা ইউনিয়নের প্রায় সব গ্রাম, কাকিলাকুড়া ও তাঁতিহারি ইউনিয়নের বিভিন্ন অংশে।
অন্যদিকে নালিতাবাড়ী উপজেলার বাতকুচি, খলচন্দা, কাটাবাড়ী, বারোমারী, নন্নী, পাঁচগাঁও ও যোগানিয়া এলাকার বিভিন্ন গ্রামেও বিদ্যুৎ সংযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের লাইনম্যানদের দেখা মিলছে না। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত লাইন দ্রুত মেরামত না হওয়ায় দুর্ভোগ আরও বাড়ছে।
এদিকে স্বাভাবিক সময়েও ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের মধ্যে থাকতে হয় গ্রাহকদের। তার ওপর ঝড়ের কারণে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে ঝিনাইগাতী উপজেলার হালচাটি গ্রামের ওমর ফারুক বলেন, একতো বিদ্যুৎ নেই, যার জন্য আমাদের ফসল বাঁচানোই কষ্ট হয়ে পড়ছে। বিদ্যুৎ না থাকার কারণে আমরা আমাদের লাইট চার্জ দিতে পারছি না হাতীর জন্য আমাদের ফসল বাঁচানো কষ্ট হয়ে পড়ছে। নেটওয়ার্ক নেই, যার জন্য যোগাযোগ করতে পারছি না। আমাদের যারা এসএসসি পরীক্ষার্থী রয়েছে, তারা ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছে না। একদিকে যেমন লোডশেডিংয়ের জন্য বিদ্যুৎ থাকে না, অন্যদিকে গত ৯৬ ঘণ্টা যাবত আমাদের এখানে বিদ্যুৎ নেই।
একই উপজেলার দারিয়ারপাড় এলাকার আতিক আকন্দ বলেন, তিন দিন থেকে বিদ্যুৎ নেই, যার জন্য আমরা কিছুই করতে পারছি না। খুব তাড়াতাড়ি যেন বিদ্যুৎ আসে, এটাই চাই।
শ্রীবরদী উপজেলার বালিঝুড়ি কালিবাড়ি এলাকার কাদির মিয়া বলেন, এমনিতেই আমাদের এলাকয় বিদ্যুৎ থাকে না, তার পর ঝড়ের কারণে গত ৩ দিন থেকে বিদ্যুৎ নেই। কোনো কাজই করতে পারছি না। মোবাইলটা পর্যন্ত চার্জ দিতে পারছি না, এজন্য সব কাজ বন্ধ হয়ে আছে।
শ্রীবরদী উপজেলার ভায়াডাঙ্গা এলাকার এসএসসি পরীক্ষার্থী সুমন মিয়া বলেন, আমাদের এলাকায় বিদ্যুৎ নেই, এজন্য আমরা ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছি না। পরীক্ষার সময় বিদ্যুৎ না থাকায় আমাদের অনেক সমস্যা হচ্ছে।
নালিতাবাড়ী উপজেলার বাতকুচি এলাকার নজরুল মিয়া বলেন, আমরা পাহাড়ি এলাকায় থাকি। আমাদের হাতির সাথে যুদ্ধ করেই ফসল ফলাতে হয় এবং জীবন বাঁচাতে হয়। একদিকে হাতি তাড়ানোর জন্য তেল পাওয়া যাচ্ছে না, আবার বিদ্যুৎ তো এমনিতেই থাকে না। ঝড়ের কারণে ৪ দিন থেকে বিদ্যুৎ নেই। আমাদের টিকে থাকাটাই খুব কষ্ট হচ্ছে। আমরা বিদ্যুতের সমাধান চাই।
এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের শ্রীবরদী উপজেলার ডিজিএম প্রকৌশলী সূর্য নারায়ণ ভৌমিক বলেন, আমাদের সব এলাকায় মোটামুটি বিদ্যুৎ চালু রয়েছে, তবে কিছু কিছু এলাকায় এখনো চালু হয়নি। আমরা চেষ্টা করছি। একদিকে ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছে, আমরা ঠিক করছি, আবার ঝড় আসার কারণে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আমাদের যে লোকবল রয়েছে, সেগুলো সাধারণ সময়ের জন্য। ইমার্জেন্সি ঝড়-বৃষ্টির জন্য সাপোর্ট দেওয়ার মতো আমাদের তেমন লোক নেই, যার জন্য বিদ্যুতের এ সমস্যাগুলো হচ্ছে।
পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের ঝিনাইগাতী উপজেলার সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (ওএন্ডএম) জহুরুল ইসলাম বলেন, আমাদের সব এলাকায় মোটামুটি বিদ্যুৎ চালু রয়েছে, তবে কিছু কিছু এলাকায় এখনো চালু হয়নি। আমরা আমাদের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
শেরপুর পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মো. মাইনউদ্দিন আহমদ বলেন, আমাদের কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ নেই, এটা সত্যি। তবে এটা সামান্য পরিমাণ। শ্রীবরদী উপজেলায় ১৫০০ থেকে ২০০০ বিদ্যুৎ গ্রাহক বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন রয়েছে আজ ২৮ এপ্রিল মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত।তাকে প্রায় ৫০টি গ্রামে বিদ্যুৎ নেই জানালে তিনি বলেন, এত হবে না। তিনি আরও বলেন, ঝিনাইগাতী উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে হাতির জন্য বিদ্যুৎ লাইন বন্ধ রাখার বিষয় জানানোর জন্য পাহাড়ি এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ রয়েছে । এছাড়াও তিনি বলেন, ৫০টি গ্রামে বিদ্যুৎ নেই, এটা তার জানা নেই। তার অফিসের কর্মকর্তারা তাকে এ বিষয়ে সঠিক কোনো তথ্য জানাননি। তিনি আরও বলেন, যে গ্রামে বিদ্যুৎ নেই, সেগুলো বিষয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে ঝিনাইগাতী উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আল-আমীন বলেন,বিদ্যুতের বিষয়ে যদি বলি বিভিন্ন জায়গায় ঝড়-বৃষ্টির কারণে বিদ্যুৎ নেই। এ বিষয়ে আমরা পল্লী বিদ্যুতের সাথে কথা বলেছি, তারা কাজ করছে।এছাড়াও পাহাড়ে হাতির জন্য বিদ্যুৎ বন্ধের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুতের সাথে এখনো কথা বলিনি। বিদ্যুতের সমস্যা সমাধানে আমরা পল্লী বিদ্যুতের সাথে কথা বলছি। আশা করি তারা খুব দ্রুতই সমাধান করবে।
শ্রীবরদী উপজেলার নির্বাহী অফিসার মনীষা আহমেদ বলেন, বিদ্যুতের বিষয়ে পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএমের সাথে আমার কথা হচ্ছে। বিদ্যুতের সমস্যার সমাধানের বিষয়ে তাকে জানানো হচ্ছে। তারা শুধুমাত্র মুখে বলছে যে ঠিক হবে। এসএসসি পরীক্ষার সময় বিদ্যুৎ বন্ধ না করার জন্য আমি তাদেরকে বলেছি, কিন্তু তারা সেই সময় বিদ্যুৎ বন্ধ রেখেছে। এ বিষয়গুলো নিয়ে আমরা সমাধানের জন্য কাজ করছি।
উল্লেখ্য, শেরপুর জেলায় পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের আওতায় প্রায় ৩ লাখ ২৬ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ সুবিধা গ্রহণ করছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে জেলার কৃষি, শিক্ষা ও সাধারণ জনজীবনে এর নেতিবাচক প্রভাব আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬
টানা চারদিন ধরে কালবৈশাখী ঝড়, বৃষ্টি ও বজ্রপাতের প্রভাবে শেরপুর জেলার প্রায় সব উপজেলায় মারাত্মক বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। গাছের ডালপালা ভেঙে বৈদ্যুতিক লাইনের ওপর পড়ায় সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এতে জেলার শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার অন্তত ৫০ থেকে ৬০টি গ্রামের মানুষ টানা ৭২ থেকে ৯৬ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ এপ্রিল রাত থেকে শুরু হওয়া ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাতের পর থেকেই বিশেষ করে পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। অনেক এলাকায় টানা ৮০ থেকে ৯৬ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ নেই। এসব এলাকার বেশিরভাগ সংযোগ পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন।
ঝিনাইগাতী উপজেলার নওকুচি, গান্ধিগাঁও, সন্ধ্যাকুড়া, হালচাটি, কালিবাড়ি, তাওয়াকুচা, দারিয়াপাড়া, কুচনিপাড়া ও হালুহাটি গ্রামসহ বহু এলাকায় তিন থেকে চারদিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। একই চিত্র শ্রীবরদী উপজেলার রানিশিমুল, সিংগাবর্ণা ইউনিয়নের প্রায় সব গ্রাম, কাকিলাকুড়া ও তাঁতিহারি ইউনিয়নের বিভিন্ন অংশে।
অন্যদিকে নালিতাবাড়ী উপজেলার বাতকুচি, খলচন্দা, কাটাবাড়ী, বারোমারী, নন্নী, পাঁচগাঁও ও যোগানিয়া এলাকার বিভিন্ন গ্রামেও বিদ্যুৎ সংযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের লাইনম্যানদের দেখা মিলছে না। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত লাইন দ্রুত মেরামত না হওয়ায় দুর্ভোগ আরও বাড়ছে।
এদিকে স্বাভাবিক সময়েও ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের মধ্যে থাকতে হয় গ্রাহকদের। তার ওপর ঝড়ের কারণে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে ঝিনাইগাতী উপজেলার হালচাটি গ্রামের ওমর ফারুক বলেন, একতো বিদ্যুৎ নেই, যার জন্য আমাদের ফসল বাঁচানোই কষ্ট হয়ে পড়ছে। বিদ্যুৎ না থাকার কারণে আমরা আমাদের লাইট চার্জ দিতে পারছি না হাতীর জন্য আমাদের ফসল বাঁচানো কষ্ট হয়ে পড়ছে। নেটওয়ার্ক নেই, যার জন্য যোগাযোগ করতে পারছি না। আমাদের যারা এসএসসি পরীক্ষার্থী রয়েছে, তারা ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছে না। একদিকে যেমন লোডশেডিংয়ের জন্য বিদ্যুৎ থাকে না, অন্যদিকে গত ৯৬ ঘণ্টা যাবত আমাদের এখানে বিদ্যুৎ নেই।
একই উপজেলার দারিয়ারপাড় এলাকার আতিক আকন্দ বলেন, তিন দিন থেকে বিদ্যুৎ নেই, যার জন্য আমরা কিছুই করতে পারছি না। খুব তাড়াতাড়ি যেন বিদ্যুৎ আসে, এটাই চাই।
শ্রীবরদী উপজেলার বালিঝুড়ি কালিবাড়ি এলাকার কাদির মিয়া বলেন, এমনিতেই আমাদের এলাকয় বিদ্যুৎ থাকে না, তার পর ঝড়ের কারণে গত ৩ দিন থেকে বিদ্যুৎ নেই। কোনো কাজই করতে পারছি না। মোবাইলটা পর্যন্ত চার্জ দিতে পারছি না, এজন্য সব কাজ বন্ধ হয়ে আছে।
শ্রীবরদী উপজেলার ভায়াডাঙ্গা এলাকার এসএসসি পরীক্ষার্থী সুমন মিয়া বলেন, আমাদের এলাকায় বিদ্যুৎ নেই, এজন্য আমরা ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছি না। পরীক্ষার সময় বিদ্যুৎ না থাকায় আমাদের অনেক সমস্যা হচ্ছে।
নালিতাবাড়ী উপজেলার বাতকুচি এলাকার নজরুল মিয়া বলেন, আমরা পাহাড়ি এলাকায় থাকি। আমাদের হাতির সাথে যুদ্ধ করেই ফসল ফলাতে হয় এবং জীবন বাঁচাতে হয়। একদিকে হাতি তাড়ানোর জন্য তেল পাওয়া যাচ্ছে না, আবার বিদ্যুৎ তো এমনিতেই থাকে না। ঝড়ের কারণে ৪ দিন থেকে বিদ্যুৎ নেই। আমাদের টিকে থাকাটাই খুব কষ্ট হচ্ছে। আমরা বিদ্যুতের সমাধান চাই।
এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের শ্রীবরদী উপজেলার ডিজিএম প্রকৌশলী সূর্য নারায়ণ ভৌমিক বলেন, আমাদের সব এলাকায় মোটামুটি বিদ্যুৎ চালু রয়েছে, তবে কিছু কিছু এলাকায় এখনো চালু হয়নি। আমরা চেষ্টা করছি। একদিকে ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছে, আমরা ঠিক করছি, আবার ঝড় আসার কারণে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আমাদের যে লোকবল রয়েছে, সেগুলো সাধারণ সময়ের জন্য। ইমার্জেন্সি ঝড়-বৃষ্টির জন্য সাপোর্ট দেওয়ার মতো আমাদের তেমন লোক নেই, যার জন্য বিদ্যুতের এ সমস্যাগুলো হচ্ছে।
পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের ঝিনাইগাতী উপজেলার সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (ওএন্ডএম) জহুরুল ইসলাম বলেন, আমাদের সব এলাকায় মোটামুটি বিদ্যুৎ চালু রয়েছে, তবে কিছু কিছু এলাকায় এখনো চালু হয়নি। আমরা আমাদের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
শেরপুর পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মো. মাইনউদ্দিন আহমদ বলেন, আমাদের কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ নেই, এটা সত্যি। তবে এটা সামান্য পরিমাণ। শ্রীবরদী উপজেলায় ১৫০০ থেকে ২০০০ বিদ্যুৎ গ্রাহক বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন রয়েছে আজ ২৮ এপ্রিল মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত।তাকে প্রায় ৫০টি গ্রামে বিদ্যুৎ নেই জানালে তিনি বলেন, এত হবে না। তিনি আরও বলেন, ঝিনাইগাতী উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে হাতির জন্য বিদ্যুৎ লাইন বন্ধ রাখার বিষয় জানানোর জন্য পাহাড়ি এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ রয়েছে । এছাড়াও তিনি বলেন, ৫০টি গ্রামে বিদ্যুৎ নেই, এটা তার জানা নেই। তার অফিসের কর্মকর্তারা তাকে এ বিষয়ে সঠিক কোনো তথ্য জানাননি। তিনি আরও বলেন, যে গ্রামে বিদ্যুৎ নেই, সেগুলো বিষয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে ঝিনাইগাতী উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আল-আমীন বলেন,বিদ্যুতের বিষয়ে যদি বলি বিভিন্ন জায়গায় ঝড়-বৃষ্টির কারণে বিদ্যুৎ নেই। এ বিষয়ে আমরা পল্লী বিদ্যুতের সাথে কথা বলেছি, তারা কাজ করছে।এছাড়াও পাহাড়ে হাতির জন্য বিদ্যুৎ বন্ধের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুতের সাথে এখনো কথা বলিনি। বিদ্যুতের সমস্যা সমাধানে আমরা পল্লী বিদ্যুতের সাথে কথা বলছি। আশা করি তারা খুব দ্রুতই সমাধান করবে।
শ্রীবরদী উপজেলার নির্বাহী অফিসার মনীষা আহমেদ বলেন, বিদ্যুতের বিষয়ে পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএমের সাথে আমার কথা হচ্ছে। বিদ্যুতের সমস্যার সমাধানের বিষয়ে তাকে জানানো হচ্ছে। তারা শুধুমাত্র মুখে বলছে যে ঠিক হবে। এসএসসি পরীক্ষার সময় বিদ্যুৎ বন্ধ না করার জন্য আমি তাদেরকে বলেছি, কিন্তু তারা সেই সময় বিদ্যুৎ বন্ধ রেখেছে। এ বিষয়গুলো নিয়ে আমরা সমাধানের জন্য কাজ করছি।
উল্লেখ্য, শেরপুর জেলায় পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের আওতায় প্রায় ৩ লাখ ২৬ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ সুবিধা গ্রহণ করছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে জেলার কৃষি, শিক্ষা ও সাধারণ জনজীবনে এর নেতিবাচক প্রভাব আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন