শেরপুর     শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
 ‍SherpurTimes24

জকসুর ক্রীড়া সম্পাদককে থাপ্পড় দিলেন ছাত্রদল প্যানেলের পরাজিত হল সংসদ জিএস প্রার্থী



জকসুর ক্রীড়া সম্পাদককে থাপ্পড় দিলেন ছাত্রদল প্যানেলের পরাজিত হল সংসদ জিএস প্রার্থী
ছবি: প্রতিনিধি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) অষ্টম ইনডোর গেমস ক্যারাম টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে জকসুর ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার নাঈমকে থাপ্পড় দিয়েছেন নারী শিক্ষার্থীদের একমাত্র আবাসিক হল নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হল সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদল প্যানেল থেকে পরাজিত জিএস প্রার্থী সাদিয়া সুলতানা নেলী। বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনডোর গেমসের ক্যারাম ফাইনালকে ঘিরে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফাইনাল ম্যাচ চলাকালে খেলার নিয়ম ভাঙার অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে অংশগ্রহণকারী নেলী ও ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার নাঈমের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে সাদিয়া সুলতানা নেলী তাকে থাপ্পড় দেন।

এ বিষয়ে জকসুর ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার নাঈম বলেন, নিয়ম অনুযায়ী একটি দলের দুই খেলোয়াড় একই বিভাগের হওয়ার কথা থাকলেও ফাইনালে ওঠা একটি দলের খেলোয়াড় ভিন্ন বিভাগের ছিল। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি প্রস্তাব দেন আসন্ন আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় টুর্নামেন্টের জন্য খেলোয়াড় বাছাইকে প্রাধান্য দিয়ে দুই দলকেই যৌথ চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হোক। তবে নেলী এতে রাজি হননি; তার দাবি ছিল, কোনো ম্যাচ ছাড়াই তাদের দলকে একক চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করতে হবে।

তিনি আরও জানান, বিষয়টি ক্রীড়া উপকমিটির ওপর ছেড়ে দেওয়ার কথা বললে নেলী তাকে বিভিন্নভাবে চাপ দেন এবং হুমকি দেন। পরে পুরস্কার বিতরণ শেষে বিজনেস অনুষদের ডিন ও জকসুর ভিপির সঙ্গে অডিটোরিয়াম থেকে বের হওয়ার সময় নেলী আবার কথা বলতে এসে এক পর্যায়ে সবার সামনে তাকে থাপ্পড় মারেন এবং অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন।

এ ঘটনায় তিনি প্রক্টর ও উপাচার্যকে অবহিত করেছেন এবং প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান। ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান তিনি।

এঘটনার পর সাদিয়া সুলতানা নেলী তার ব্যক্তিগত ফেসবুক একাউন্টে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি লিখেন, মিস্টার জর্জিস আনোয়ার নাইম (জকসুর ক্রীড়া সম্পাদক) এর পর থেকে খেলায় স্বজনপ্রীতি করলে এর চেয়ে বেশি থাপ্পর খাবেন। এখন ত শুধু একটা দিছি। আপনার স্বজনপ্রীতির সব প্রমাণ কিন্তু আছে আমার কাছে। কিন্তু ইতিমধ্যেই আপনার ছাত্রীসংস্থার মেয়েরা লিখতেছে আমি নাকি স্যারের পাওয়ার দেখিয়ে আপনার গায়ে হাত তুলছি। যেখানে অন্যায় আপনার, অন্যায় ভাবে রুলসের বাইরে গিয়ে ২টা টিমকে একসাথে চ্যাম্পিয়ন করতে চাইছেন সেখানে কারোর পাওয়ার লাগে না। ক্রীড়া সম্পাদক হয়ে ঠিকঠাক দায়িত্ব পালন করেন। অবৈধভাবে কাউকে চ্যাম্পিয়ন করার চেষ্টাও করবেন না।

থাপ্পড় দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে সাদিয়া সুলতানা নেলী বলেন, ডাবল গেমসে দুই খেলোয়াড় একই বিভাগের হওয়ার নিয়ম থাকলেও প্রতিপক্ষ দল তা মানেনি। বিষয়টি ক্রীড়া কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্তদের জানানো হলে তারা যাচাই করে প্রতিপক্ষ দলকে বাতিল করে তাদের দলকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। কিন্তু ক্রীড়া সম্পাদক সেই সিদ্ধান্ত না মেনে অভিযুক্তদের পক্ষে অবস্থান নেন এবং তাদের বিরুদ্ধে মন্তব্য করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে চাইলেও জর্জিস তা গুরুত্ব দেননি এবং উল্টো হুমকিসূচক বক্তব্য দেন। এতে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে তিনি তাকে থাপ্পড় দেন।

পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে নেলী বলেন, একজন নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে জর্জিস ব্যক্তিগতভাবে কোনো পক্ষ নিতে পারেন না। এছাড়াও তিনি বলেন, “অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া হয়নি, প্রয়োজনে প্রশাসনের শাস্তিও মেনে নেব।”

এ বিষয়ে ক্রীড়া কমিটির সদস্য সচিব গৌতম কুমার দাস জানান, থাপ্পড় দেওয়ার সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না। তবে পরবর্তীতে তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী একই বিভাগের খেলোয়াড় নিয়ে দল গঠনের কথা থাকলেও একটি দল তা লঙ্ঘন করেছিল। বিষয়টি নিয়ে তর্ক হলেও পরে খেলা শেষ হয় এবং পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

তিনি আরও জানান, পুরস্কার বিতরণের পর অডিটোরিয়াম এলাকা থেকে বের হওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে ক্রীড়া কমিটির আহ্বায়ক উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে তারা উপাচার্যের কাছে বিষয়টি অবহিত করেন এবং একটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

 ‍SherpurTimes24

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


জকসুর ক্রীড়া সম্পাদককে থাপ্পড় দিলেন ছাত্রদল প্যানেলের পরাজিত হল সংসদ জিএস প্রার্থী

প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) অষ্টম ইনডোর গেমস ক্যারাম টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে জকসুর ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার নাঈমকে থাপ্পড় দিয়েছেন নারী শিক্ষার্থীদের একমাত্র আবাসিক হল নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হল সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদল প্যানেল থেকে পরাজিত জিএস প্রার্থী সাদিয়া সুলতানা নেলী। বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনডোর গেমসের ক্যারাম ফাইনালকে ঘিরে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফাইনাল ম্যাচ চলাকালে খেলার নিয়ম ভাঙার অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে অংশগ্রহণকারী নেলী ও ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার নাঈমের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে সাদিয়া সুলতানা নেলী তাকে থাপ্পড় দেন।

এ বিষয়ে জকসুর ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার নাঈম বলেন, নিয়ম অনুযায়ী একটি দলের দুই খেলোয়াড় একই বিভাগের হওয়ার কথা থাকলেও ফাইনালে ওঠা একটি দলের খেলোয়াড় ভিন্ন বিভাগের ছিল। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি প্রস্তাব দেন আসন্ন আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় টুর্নামেন্টের জন্য খেলোয়াড় বাছাইকে প্রাধান্য দিয়ে দুই দলকেই যৌথ চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হোক। তবে নেলী এতে রাজি হননি; তার দাবি ছিল, কোনো ম্যাচ ছাড়াই তাদের দলকে একক চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করতে হবে।

তিনি আরও জানান, বিষয়টি ক্রীড়া উপকমিটির ওপর ছেড়ে দেওয়ার কথা বললে নেলী তাকে বিভিন্নভাবে চাপ দেন এবং হুমকি দেন। পরে পুরস্কার বিতরণ শেষে বিজনেস অনুষদের ডিন ও জকসুর ভিপির সঙ্গে অডিটোরিয়াম থেকে বের হওয়ার সময় নেলী আবার কথা বলতে এসে এক পর্যায়ে সবার সামনে তাকে থাপ্পড় মারেন এবং অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন।

এ ঘটনায় তিনি প্রক্টর ও উপাচার্যকে অবহিত করেছেন এবং প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান। ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান তিনি।

এঘটনার পর সাদিয়া সুলতানা নেলী তার ব্যক্তিগত ফেসবুক একাউন্টে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি লিখেন, মিস্টার জর্জিস আনোয়ার নাইম (জকসুর ক্রীড়া সম্পাদক) এর পর থেকে খেলায় স্বজনপ্রীতি করলে এর চেয়ে বেশি থাপ্পর খাবেন। এখন ত শুধু একটা দিছি। আপনার স্বজনপ্রীতির সব প্রমাণ কিন্তু আছে আমার কাছে। কিন্তু ইতিমধ্যেই আপনার ছাত্রীসংস্থার মেয়েরা লিখতেছে আমি নাকি স্যারের পাওয়ার দেখিয়ে আপনার গায়ে হাত তুলছি। যেখানে অন্যায় আপনার, অন্যায় ভাবে রুলসের বাইরে গিয়ে ২টা টিমকে একসাথে চ্যাম্পিয়ন করতে চাইছেন সেখানে কারোর পাওয়ার লাগে না। ক্রীড়া সম্পাদক হয়ে ঠিকঠাক দায়িত্ব পালন করেন। অবৈধভাবে কাউকে চ্যাম্পিয়ন করার চেষ্টাও করবেন না।

থাপ্পড় দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে সাদিয়া সুলতানা নেলী বলেন, ডাবল গেমসে দুই খেলোয়াড় একই বিভাগের হওয়ার নিয়ম থাকলেও প্রতিপক্ষ দল তা মানেনি। বিষয়টি ক্রীড়া কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্তদের জানানো হলে তারা যাচাই করে প্রতিপক্ষ দলকে বাতিল করে তাদের দলকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। কিন্তু ক্রীড়া সম্পাদক সেই সিদ্ধান্ত না মেনে অভিযুক্তদের পক্ষে অবস্থান নেন এবং তাদের বিরুদ্ধে মন্তব্য করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে চাইলেও জর্জিস তা গুরুত্ব দেননি এবং উল্টো হুমকিসূচক বক্তব্য দেন। এতে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে তিনি তাকে থাপ্পড় দেন।

পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে নেলী বলেন, একজন নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে জর্জিস ব্যক্তিগতভাবে কোনো পক্ষ নিতে পারেন না। এছাড়াও তিনি বলেন, “অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া হয়নি, প্রয়োজনে প্রশাসনের শাস্তিও মেনে নেব।”

এ বিষয়ে ক্রীড়া কমিটির সদস্য সচিব গৌতম কুমার দাস জানান, থাপ্পড় দেওয়ার সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না। তবে পরবর্তীতে তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী একই বিভাগের খেলোয়াড় নিয়ে দল গঠনের কথা থাকলেও একটি দল তা লঙ্ঘন করেছিল। বিষয়টি নিয়ে তর্ক হলেও পরে খেলা শেষ হয় এবং পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

তিনি আরও জানান, পুরস্কার বিতরণের পর অডিটোরিয়াম এলাকা থেকে বের হওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে ক্রীড়া কমিটির আহ্বায়ক উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে তারা উপাচার্যের কাছে বিষয়টি অবহিত করেন এবং একটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


 ‍SherpurTimes24


কপিরাইট © ২০২৬ ‍SherpurTimes24 । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত