শেরপুর     সোমবার, ০৪ মে ২০২৬
 ‍SherpurTimes24

ঝিনাইগাতীতে এক মণ ধানের দামে মিলছে না একজন কৃষি শ্রমিক



ঝিনাইগাতীতে  এক মণ ধানের দামে মিলছে না একজন কৃষি শ্রমিক
ছবি: প্রতিনিধি

শেরপুরে বোরো ধান কাটার মওসুম শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সীমান্তের গারো পাহাড় এলাকায় চারদিকে মাঠভরা পাকা ধান দোল খাচ্ছে। তবে এই সম্ভাবনার মাঝেই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে অনিয়মিত ঝড়-বৃষ্টি।


এতে বিশেষ করে নিম্নাঞ্চলের জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর সাথে শুরু হয়েছে পাহাড়ি এলাকার বন্যহাতির তাণ্ডবের আশঙ্কা। এদিকে একই সময়ে অধিকাংশ জমির ধান পেকে যাওয়ায় শ্রমিকের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে। ফলে ধান কাটার শ্রমিকের মজুরি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। বর্তমানে একজন শ্রমিকের জন্য ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। অথচ বাজারে এক মণ ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়। অর্থাৎ এক মণ ধানের দামে মিলছে না একজন শ্রমিক। 

স্থানীয় ভুক্তভোগী কৃষকেরা জানান, গত কয়েক বছরে ধান উৎপাদনের খরচ কয়েকগুণ বেড়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় বাজারে ধানের দাম কমে যাওয়ায় তারা বিনিয়োগের টাকা ঘরে তুলতে পারছেন না। দ্রুত সরকারি ক্রয় কার্যক্রম শুরু না হলে এবং বাজারে দাম না বাড়লে তাদের লোকসান পুষিয়ে ওঠা কঠিন হয়ে পড়বে।

ঝিনাইগাতী উপজেলার বালিয়াগাঁও গ্রামের কৃষক সাদ্দাম মন্ডল বলেন, ধানের দাম কমে যাওয়ায় বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হবে। হালচাষ, সেচ, কীটনাশক সবকিছুর খরচ বেড়েছে। দোকানের ধার-দেনা, ঋণের টাকা কীভাবে শোধ করব, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।

এ বিষয়ে ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, চলতি বোরো মৌসুমে ঝিনাইগাতীতে প্রায় ১৪ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল ও দেশীয় জাতের ধান আবাদ করা হয়েছে। আমরা চাই, কৃষকেরা যেন তাদের কষ্টার্জিত ফসলের ন্যায্য মূল্য পান। এবার ভালো ফলনে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। এক সপ্তাহ ধরে ধান কাটা শুরু হয়েছে। তবে আগামী সপ্তাহে পুরোদমে কাটা হবে। কৃষকদের প্রতি পরামর্শ থাকবে, জমির ধান ৮০ ভাগ পেকে গেলেই যেন কেটে ফেলেন। বলা যায় না, শিলা বৃষ্টি ও আগাম পানির কারণে তারা ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। সরকার ঘোষিত ১ হাজার ৪৪০ টাকা দরে ধান ক্রয় কার্যক্রম শুরু হলে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আপনার মতামত লিখুন

 ‍SherpurTimes24

সোমবার, ০৪ মে ২০২৬


ঝিনাইগাতীতে এক মণ ধানের দামে মিলছে না একজন কৃষি শ্রমিক

প্রকাশের তারিখ : ০৪ মে ২০২৬

featured Image

শেরপুরে বোরো ধান কাটার মওসুম শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সীমান্তের গারো পাহাড় এলাকায় চারদিকে মাঠভরা পাকা ধান দোল খাচ্ছে। তবে এই সম্ভাবনার মাঝেই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে অনিয়মিত ঝড়-বৃষ্টি।


এতে বিশেষ করে নিম্নাঞ্চলের জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর সাথে শুরু হয়েছে পাহাড়ি এলাকার বন্যহাতির তাণ্ডবের আশঙ্কা। এদিকে একই সময়ে অধিকাংশ জমির ধান পেকে যাওয়ায় শ্রমিকের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে। ফলে ধান কাটার শ্রমিকের মজুরি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। বর্তমানে একজন শ্রমিকের জন্য ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। অথচ বাজারে এক মণ ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়। অর্থাৎ এক মণ ধানের দামে মিলছে না একজন শ্রমিক। 

স্থানীয় ভুক্তভোগী কৃষকেরা জানান, গত কয়েক বছরে ধান উৎপাদনের খরচ কয়েকগুণ বেড়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় বাজারে ধানের দাম কমে যাওয়ায় তারা বিনিয়োগের টাকা ঘরে তুলতে পারছেন না। দ্রুত সরকারি ক্রয় কার্যক্রম শুরু না হলে এবং বাজারে দাম না বাড়লে তাদের লোকসান পুষিয়ে ওঠা কঠিন হয়ে পড়বে।

ঝিনাইগাতী উপজেলার বালিয়াগাঁও গ্রামের কৃষক সাদ্দাম মন্ডল বলেন, ধানের দাম কমে যাওয়ায় বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হবে। হালচাষ, সেচ, কীটনাশক সবকিছুর খরচ বেড়েছে। দোকানের ধার-দেনা, ঋণের টাকা কীভাবে শোধ করব, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।

এ বিষয়ে ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, চলতি বোরো মৌসুমে ঝিনাইগাতীতে প্রায় ১৪ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল ও দেশীয় জাতের ধান আবাদ করা হয়েছে। আমরা চাই, কৃষকেরা যেন তাদের কষ্টার্জিত ফসলের ন্যায্য মূল্য পান। এবার ভালো ফলনে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। এক সপ্তাহ ধরে ধান কাটা শুরু হয়েছে। তবে আগামী সপ্তাহে পুরোদমে কাটা হবে। কৃষকদের প্রতি পরামর্শ থাকবে, জমির ধান ৮০ ভাগ পেকে গেলেই যেন কেটে ফেলেন। বলা যায় না, শিলা বৃষ্টি ও আগাম পানির কারণে তারা ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। সরকার ঘোষিত ১ হাজার ৪৪০ টাকা দরে ধান ক্রয় কার্যক্রম শুরু হলে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।


 ‍SherpurTimes24


কপিরাইট © ২০২৬ ‍SherpurTimes24 । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত