শেরপুর     সোমবার, ১১ মে ২০২৬
 ‍SherpurTimes24

কোরবানি ঘিরে ব্যস্ত শ্রীবরদীর প্রান্তিক খামারিরা



কোরবানি ঘিরে ব্যস্ত শ্রীবরদীর প্রান্তিক খামারিরা

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে গবাদিপশুর পরিচর্যা ও মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার প্রান্তিক খামারিরা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত খামারে চলছে গরুকে খাবার দেওয়া, পরিচর্যা ও স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের কাজ।

ক্রেতাদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে অধিকাংশ খামারেই মাঝারি আকারের গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। বড় আকৃতির গরুর তুলনায় মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি থাকায় খামারিরাও সেই দিকেই গুরুত্ব দিয়েছেন।

খামারিরা জানান, বর্তমানে কৃত্রিম উপায়ে মোটাতাজা করা পশুর প্রতি মানুষের আগ্রহ কমে গেছে। ফলে প্রাকৃতিক ও নিরাপদ উপায়ে লালন-পালন করা গরুর চাহিদা এবার বেশি থাকবে বলে আশা করছেন তারা। এতে ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনাও দেখছেন প্রান্তিক খামারিরা।

প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শ্রীবরদী উপজেলায় এবার কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে মোট ২০ হাজার ১১০টি পশু। এর মধ্যে রয়েছে ৯ হাজার ৭২০টি ষাঁড়, ৩৮০টি বলদ, ৬ হাজার ১০০টি গাভী, ১৪৫টি মহিষ, ৩ হাজার ৫১০টি ছাগল এবং ২৫৫টি ভেড়া।

উপজেলার সদর ইউনিয়নের পুরান শ্রীবরদী গ্রামের খামারি সাগর আলী জানান, ২০২০ সালে ১৫টি দেশি জাতের ষাঁড় দিয়ে খামার শুরু করেন তিনি। বর্তমানে তার খামারে রয়েছে ৭টি ষাঁড়। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গরুগুলো বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

তিনি বলেন, “সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে খড়, খৈল, ভুষি ও কাঁচা ঘাস খাইয়ে গরুগুলো মোটাতাজা করেছি। এতে খরচ একটু বেশি হলেও ঝুঁকি নেই। ক্রেতারাও এখন প্রাকৃতিকভাবে লালন-পালন করা গরুই বেশি পছন্দ করছেন।”

পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মুন্সিপাড়া গ্রামের খামারি সুন্দর আলী জানান, তিনি এবার ৬টি গরু মোটাতাজা করছেন। গরুর কোনো সমস্যা দেখা দিলে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরামর্শ ও চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে গো-খাদ্যের দাম বাড়ায় উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে বলে জানান তিনি।

সুন্দর আলী বলেন, “খরচ বেশি হলেও কোরবানির বাজারে ভালো দাম পাওয়ার আশা করছি।”

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মেহেদী হাসান বলেন, উপজেলায় প্রায় চার শতাধিক ছোট-বড় প্রান্তিক খামারি রয়েছেন। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে নিয়মিত খামার পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, “খামারিদের ক্ষতিকর ওষুধ বা ইনজেকশন ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও নিরাপদ পদ্ধতিতে গরু লালন-পালনে আমরা তাদের সহযোগিতা করছি।”

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর জানিয়েছে, কোরবানির পশু মোটাতাজাকরণে খামারিদের প্রয়োজনীয় সহায়তা ও পরামর্শ দিতে মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তারা নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন।

আপনার মতামত লিখুন

 ‍SherpurTimes24

সোমবার, ১১ মে ২০২৬


কোরবানি ঘিরে ব্যস্ত শ্রীবরদীর প্রান্তিক খামারিরা

প্রকাশের তারিখ : ১১ মে ২০২৬

featured Image

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে গবাদিপশুর পরিচর্যা ও মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার প্রান্তিক খামারিরা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত খামারে চলছে গরুকে খাবার দেওয়া, পরিচর্যা ও স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের কাজ।

ক্রেতাদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে অধিকাংশ খামারেই মাঝারি আকারের গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। বড় আকৃতির গরুর তুলনায় মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি থাকায় খামারিরাও সেই দিকেই গুরুত্ব দিয়েছেন।

খামারিরা জানান, বর্তমানে কৃত্রিম উপায়ে মোটাতাজা করা পশুর প্রতি মানুষের আগ্রহ কমে গেছে। ফলে প্রাকৃতিক ও নিরাপদ উপায়ে লালন-পালন করা গরুর চাহিদা এবার বেশি থাকবে বলে আশা করছেন তারা। এতে ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনাও দেখছেন প্রান্তিক খামারিরা।

প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শ্রীবরদী উপজেলায় এবার কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে মোট ২০ হাজার ১১০টি পশু। এর মধ্যে রয়েছে ৯ হাজার ৭২০টি ষাঁড়, ৩৮০টি বলদ, ৬ হাজার ১০০টি গাভী, ১৪৫টি মহিষ, ৩ হাজার ৫১০টি ছাগল এবং ২৫৫টি ভেড়া।

উপজেলার সদর ইউনিয়নের পুরান শ্রীবরদী গ্রামের খামারি সাগর আলী জানান, ২০২০ সালে ১৫টি দেশি জাতের ষাঁড় দিয়ে খামার শুরু করেন তিনি। বর্তমানে তার খামারে রয়েছে ৭টি ষাঁড়। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গরুগুলো বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

তিনি বলেন, “সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে খড়, খৈল, ভুষি ও কাঁচা ঘাস খাইয়ে গরুগুলো মোটাতাজা করেছি। এতে খরচ একটু বেশি হলেও ঝুঁকি নেই। ক্রেতারাও এখন প্রাকৃতিকভাবে লালন-পালন করা গরুই বেশি পছন্দ করছেন।”

পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মুন্সিপাড়া গ্রামের খামারি সুন্দর আলী জানান, তিনি এবার ৬টি গরু মোটাতাজা করছেন। গরুর কোনো সমস্যা দেখা দিলে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরামর্শ ও চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে গো-খাদ্যের দাম বাড়ায় উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে বলে জানান তিনি।

সুন্দর আলী বলেন, “খরচ বেশি হলেও কোরবানির বাজারে ভালো দাম পাওয়ার আশা করছি।”

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মেহেদী হাসান বলেন, উপজেলায় প্রায় চার শতাধিক ছোট-বড় প্রান্তিক খামারি রয়েছেন। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে নিয়মিত খামার পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, “খামারিদের ক্ষতিকর ওষুধ বা ইনজেকশন ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও নিরাপদ পদ্ধতিতে গরু লালন-পালনে আমরা তাদের সহযোগিতা করছি।”

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর জানিয়েছে, কোরবানির পশু মোটাতাজাকরণে খামারিদের প্রয়োজনীয় সহায়তা ও পরামর্শ দিতে মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তারা নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন।


 ‍SherpurTimes24


কপিরাইট © ২০২৬ ‍SherpurTimes24 । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত