ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বহুল প্রত্যাশিত মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রটি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগেই ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে এলাকাবাসী ও মুসল্লিদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়,ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে সারাদেশে ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৯ হাজার ৪৩৫ কোটি টাকা। প্রতিটি উপজেলা পর্যায়ের মডেল মসজিদ নির্মাণে অবস্থান ও নকশাভেদে গড়ে প্রায় ১৫ থেকে ১৭ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। নাঈমা রহমান নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদার রাজিব চৌধুরী ভালুকা মডেল মজিদের নির্মান কাজ করছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, মসজিদ উদ্বোধনের আগেই ভবনের দেয়ালের ছোট-বড় একাধিক স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। ফাটল ছাড়াও নির্মাণকাজের গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ঠিকাদার প্রতিষ্টান ঘষামাজা ও প্লাটার দিয়ে ফাটল রিপিয়ারিংক করে মুছে দিয়েছে। এতে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দেয়া মসজিদ যাচাই বাচাই কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফিরোজ হোসেনসহ অন্যান্য সদস্যরা ভবনটি বুঝে নেয়নি। ফলে উদ্বোধন আটকে গিয়েছে।
স্থানীয় মুসল্লি জানান, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পের আওতায় নির্মিত মসজিদটি এলাকার ধর্মপ্রাণ মানুষের জন্য একটি বড় সম্পদ। তাই উদ্বোধনের আগেই ফাটল দেখা দেয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। তারা অভিযোগ করে বলেন, বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেয়ার পর ঠিকাদার তড়িগড়ি করে কিছু লোক লাগিয়ে ঘষামাজা করে যাচাই বাছাই কমিটিকে বুঝ দেয়ার পাঁয়তারা করছেন। তবে স্থানীয়রা দ্রুত কারিগরি তদন্তের মাধ্যমে ফাটলের কারণ নির্ণয় এবং প্রয়োজনীয় মেরামত কাজ সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, জনগণের করের টাকায় নির্মিত এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার গুণগত মান নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট সকলের দায়িত্ব। নাঈমা রহমান ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদার রাজিব চৌধুরীর সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করলেও রিসিভ না করায় বক্তব্য দেয়া সম্ভব হয়নি।
উপজেলা প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক জানান,কমিটির সদস্যদের নিয়ে তিনি পরিদর্শন করে বিভিন্ন স্থানে ফাটলসহ কিছু ক্রুটি পেয়েছেন। ত্রুটিগুলো মেরামত করে কমিটিকে অবহিত করা হয়েছে। পরবর্তীতে আবারো যাচাই করে ত্রুটিমুক্ত পাওয়া গেলেই প্রতিবেদন তৈরী করে নির্বাহী অফিসারের কাছে জমা দেয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: ফিরোজ হোসেন জানান, ঠিকাদার ত্রুটিযুক্ত অবস্থায় মডেল মসজিদটি হস্তান্তর করতে চেয়েছিলো কিন্তু ফাটল দেখা দেয়ায় নেয়া হয়নি। উপজেলা প্রকৌশলীকে প্রধান ও ইসলামী ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপারভাইজারকে সদস্য সচিব করে সাত সদস্য বিশিষ্ট হস্তান্তর প্রাক যাচাই বাচাই কমিটি করে দেয়া হয়েছে। ওই কমিটি যাচাই বাচাই করে রির্পোট দিলে মজিদটি ঠিকার প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে গ্রহন করা হবে।
ময়মনসিংহ গণপূর্ত বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ফাহমিদ ইফতেখার আলী জানান, ভালুকা মডেল মসজিদটি হস্তান্তরের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। কিন্তু কিছু ত্রুটি থাকায় ঠিকাদারকে বলা হয়েছে ত্রুটিমুক্ত করে দেয়ার জন্য। ঈদের কারণে একটু সময় দেয়া হয়েছে। তবে, খুব শিগগিরই যথযথ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বহুল প্রত্যাশিত মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রটি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগেই ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে এলাকাবাসী ও মুসল্লিদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়,ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে সারাদেশে ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৯ হাজার ৪৩৫ কোটি টাকা। প্রতিটি উপজেলা পর্যায়ের মডেল মসজিদ নির্মাণে অবস্থান ও নকশাভেদে গড়ে প্রায় ১৫ থেকে ১৭ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। নাঈমা রহমান নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদার রাজিব চৌধুরী ভালুকা মডেল মজিদের নির্মান কাজ করছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, মসজিদ উদ্বোধনের আগেই ভবনের দেয়ালের ছোট-বড় একাধিক স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। ফাটল ছাড়াও নির্মাণকাজের গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ঠিকাদার প্রতিষ্টান ঘষামাজা ও প্লাটার দিয়ে ফাটল রিপিয়ারিংক করে মুছে দিয়েছে। এতে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দেয়া মসজিদ যাচাই বাচাই কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফিরোজ হোসেনসহ অন্যান্য সদস্যরা ভবনটি বুঝে নেয়নি। ফলে উদ্বোধন আটকে গিয়েছে।
স্থানীয় মুসল্লি জানান, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পের আওতায় নির্মিত মসজিদটি এলাকার ধর্মপ্রাণ মানুষের জন্য একটি বড় সম্পদ। তাই উদ্বোধনের আগেই ফাটল দেখা দেয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। তারা অভিযোগ করে বলেন, বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেয়ার পর ঠিকাদার তড়িগড়ি করে কিছু লোক লাগিয়ে ঘষামাজা করে যাচাই বাছাই কমিটিকে বুঝ দেয়ার পাঁয়তারা করছেন। তবে স্থানীয়রা দ্রুত কারিগরি তদন্তের মাধ্যমে ফাটলের কারণ নির্ণয় এবং প্রয়োজনীয় মেরামত কাজ সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, জনগণের করের টাকায় নির্মিত এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার গুণগত মান নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট সকলের দায়িত্ব। নাঈমা রহমান ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদার রাজিব চৌধুরীর সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করলেও রিসিভ না করায় বক্তব্য দেয়া সম্ভব হয়নি।
উপজেলা প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক জানান,কমিটির সদস্যদের নিয়ে তিনি পরিদর্শন করে বিভিন্ন স্থানে ফাটলসহ কিছু ক্রুটি পেয়েছেন। ত্রুটিগুলো মেরামত করে কমিটিকে অবহিত করা হয়েছে। পরবর্তীতে আবারো যাচাই করে ত্রুটিমুক্ত পাওয়া গেলেই প্রতিবেদন তৈরী করে নির্বাহী অফিসারের কাছে জমা দেয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: ফিরোজ হোসেন জানান, ঠিকাদার ত্রুটিযুক্ত অবস্থায় মডেল মসজিদটি হস্তান্তর করতে চেয়েছিলো কিন্তু ফাটল দেখা দেয়ায় নেয়া হয়নি। উপজেলা প্রকৌশলীকে প্রধান ও ইসলামী ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপারভাইজারকে সদস্য সচিব করে সাত সদস্য বিশিষ্ট হস্তান্তর প্রাক যাচাই বাচাই কমিটি করে দেয়া হয়েছে। ওই কমিটি যাচাই বাচাই করে রির্পোট দিলে মজিদটি ঠিকার প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে গ্রহন করা হবে।
ময়মনসিংহ গণপূর্ত বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ফাহমিদ ইফতেখার আলী জানান, ভালুকা মডেল মসজিদটি হস্তান্তরের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। কিন্তু কিছু ত্রুটি থাকায় ঠিকাদারকে বলা হয়েছে ত্রুটিমুক্ত করে দেয়ার জন্য। ঈদের কারণে একটু সময় দেয়া হয়েছে। তবে, খুব শিগগিরই যথযথ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন