শেরপুর     শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬
 ‍SherpurTimes24

ঝিনাইগাতীতে ১৪টি মৃৎশিল্পী পরিবারকে সম্মাননা



ঝিনাইগাতীতে ১৪টি মৃৎশিল্পী পরিবারকে সম্মাননা
ছবি: প্রতিনিধি

হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প সংরক্ষণ, কারিগরদের অবদানের স্বীকৃতি এবং নতুন প্রজন্মের কাছে এ শিল্পের গুরুত্ব তুলে ধরতে শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে ১৪টি মৃৎশিল্পী পরিবারকে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।

‘হাতের ছোঁয়ায় গড়ি ঐতিহ্য, শিল্পীর মর্যাদায় গড়ি সমৃদ্ধি’ প্রতিপাদ্যে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিউটি অব ঝিনাইগাতীর উদ্যোগে সম্প্রতি উপজেলার আপন শিক্ষা পরিবার প্রাঙ্গণে ‘মৃৎশিল্পী কারিগর সম্মাননা-২০২৬’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপজেলার ১৪টি মৃৎশিল্পী পরিবারের প্রতিনিধিদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।


পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। গাজীপুর ইউনাইটেড কলেজের প্রভাষক ও পরিচালক আমিনুল ইসলাম শামিমের সভাপতিত্বে এবং হাসান মাহমুদ (রনি)-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আলহাজ্ব শফিউদ্দিন ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সরোয়ার আলম।

এ সময় বক্তব্য দেন সমাজসেবক নজরুল ইসলাম, আবু বক্কর সিদ্দিক, হেলাল উদ্দিন, হাফেজ মাওলানা ফয়জুল হাসান, আপন শিক্ষা পরিবারের প্রধান শিক্ষক রহমত আলী, শেরপুর প্রেসক্লাবের গণমাধ্যমকর্মীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

বক্তারা বলেন, মৃৎশিল্প বাংলাদেশের হাজার বছরের ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একসময় গ্রামবাংলার নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর বড় অংশই ছিল মাটির তৈরি। আধুনিক প্রযুক্তি ও বিকল্প উপকরণের প্রসারের ফলে বর্তমানে এ শিল্পের চাহিদা কমে গেছে। এতে মৃৎশিল্পের সঙ্গে জড়িত পরিবারগুলো নানা সংকটের মুখে পড়েছে। ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও মত দেন তারা।

আপন শিক্ষা পরিবারের প্রধান শিক্ষক রহমত আলী বলেন, “মৃৎশিল্পীরা আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক। তাদের কাজের যথাযথ মূল্যায়ন ও সামাজিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করা গেলে এই শিল্প নতুনভাবে বিকশিত হওয়ার সুযোগ পাবে।”

বিউটি অব ঝিনাইগাতীর সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান রুলেন বলেন, “মৃৎশিল্প আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এ শিল্প হারিয়ে যাচ্ছে। কারিগরদের সম্মান জানানো এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তাদের অবদান তুলে ধরতেই আমাদের এই আয়োজন।” তিনি জানান, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে ভবিষ্যতেও বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে সংগঠনটি।

সম্মাননা পাওয়া মৃৎশিল্পী পরিবারের সদস্যরা আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের স্বীকৃতি তাদের কাজের প্রতি নতুন উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা জোগাবে।

অনুষ্ঠানে বিউটি অব ঝিনাইগাতীর পরিচালকবৃন্দ, সংগঠনের সদস্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ হারিয়ে যেতে বসা মৃৎশিল্প সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ তুলে ধরতে সহায়ক হবে।

আপনার মতামত লিখুন

 ‍SherpurTimes24

শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬


ঝিনাইগাতীতে ১৪টি মৃৎশিল্পী পরিবারকে সম্মাননা

প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুন ২০২৬

featured Image

হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প সংরক্ষণ, কারিগরদের অবদানের স্বীকৃতি এবং নতুন প্রজন্মের কাছে এ শিল্পের গুরুত্ব তুলে ধরতে শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে ১৪টি মৃৎশিল্পী পরিবারকে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।

‘হাতের ছোঁয়ায় গড়ি ঐতিহ্য, শিল্পীর মর্যাদায় গড়ি সমৃদ্ধি’ প্রতিপাদ্যে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিউটি অব ঝিনাইগাতীর উদ্যোগে সম্প্রতি উপজেলার আপন শিক্ষা পরিবার প্রাঙ্গণে ‘মৃৎশিল্পী কারিগর সম্মাননা-২০২৬’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপজেলার ১৪টি মৃৎশিল্পী পরিবারের প্রতিনিধিদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।


পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। গাজীপুর ইউনাইটেড কলেজের প্রভাষক ও পরিচালক আমিনুল ইসলাম শামিমের সভাপতিত্বে এবং হাসান মাহমুদ (রনি)-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আলহাজ্ব শফিউদ্দিন ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সরোয়ার আলম।

এ সময় বক্তব্য দেন সমাজসেবক নজরুল ইসলাম, আবু বক্কর সিদ্দিক, হেলাল উদ্দিন, হাফেজ মাওলানা ফয়জুল হাসান, আপন শিক্ষা পরিবারের প্রধান শিক্ষক রহমত আলী, শেরপুর প্রেসক্লাবের গণমাধ্যমকর্মীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

বক্তারা বলেন, মৃৎশিল্প বাংলাদেশের হাজার বছরের ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একসময় গ্রামবাংলার নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর বড় অংশই ছিল মাটির তৈরি। আধুনিক প্রযুক্তি ও বিকল্প উপকরণের প্রসারের ফলে বর্তমানে এ শিল্পের চাহিদা কমে গেছে। এতে মৃৎশিল্পের সঙ্গে জড়িত পরিবারগুলো নানা সংকটের মুখে পড়েছে। ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও মত দেন তারা।

আপন শিক্ষা পরিবারের প্রধান শিক্ষক রহমত আলী বলেন, “মৃৎশিল্পীরা আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক। তাদের কাজের যথাযথ মূল্যায়ন ও সামাজিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করা গেলে এই শিল্প নতুনভাবে বিকশিত হওয়ার সুযোগ পাবে।”

বিউটি অব ঝিনাইগাতীর সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান রুলেন বলেন, “মৃৎশিল্প আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এ শিল্প হারিয়ে যাচ্ছে। কারিগরদের সম্মান জানানো এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তাদের অবদান তুলে ধরতেই আমাদের এই আয়োজন।” তিনি জানান, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে ভবিষ্যতেও বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে সংগঠনটি।

সম্মাননা পাওয়া মৃৎশিল্পী পরিবারের সদস্যরা আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের স্বীকৃতি তাদের কাজের প্রতি নতুন উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা জোগাবে।

অনুষ্ঠানে বিউটি অব ঝিনাইগাতীর পরিচালকবৃন্দ, সংগঠনের সদস্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ হারিয়ে যেতে বসা মৃৎশিল্প সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ তুলে ধরতে সহায়ক হবে।


 ‍SherpurTimes24


কপিরাইট © ২০২৬ ‍SherpurTimes24 । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত