শেরপুর     বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
 ‍SherpurTimes24

নালিতাবাড়ীতে পাহাড়ী ঢলে পাকা রাস্তা ভেঙে বাতকুচি গ্রাম বিচ্ছিন্ন, হাজারও মানুষের দুর্ভোগ



নালিতাবাড়ীতে পাহাড়ী ঢলে পাকা রাস্তা ভেঙে বাতকুচি গ্রাম বিচ্ছিন্ন, হাজারও মানুষের দুর্ভোগ
ছবি : প্রতিনিধি

উজানে ভারত থেকে নেমে আসা খরস্রোতা চেল্লাখালী নদীর অর্ধেক অংশই পাহাড়ের মাঝ দিয়ে বয়ে চলেছে। পাহাড়ের ঝর্ণার পানিই নদীটির জীবন। তবে পাহাড় বেয়ে নদীতে নামা বৃষ্টির পানি এখন হয়ে উঠেছে যন্ত্রণার কারণ। পাহাড়ী ঢলে পাকা রাস্তা ভেঙে পুরো বাতকুচি গ্রাম বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

সীমান্তবর্তী নালিতাবাড়ী উপজেলার বাতকুচি গ্রামটি ১নং পোড়াগাঁও ইউনিয়নের মাঝখানে অবস্থিত। ইউনিয়ন পরিষদটি সর্ব-পশ্চিমে হওয়ায় গ্রামটি দিয়েই পুরো ইউনিয়নবাসী যাতায়াত করতেন। তবে এখন আর সেটি সম্ভব হচ্ছে না। শুধু তাই নয়, গ্রামটির পূর্বপাশে ঐতিহ্যবাহী বারোমারী বাজার থেকেও বাতকুচি গ্রামটি এখন বিচ্ছিন্ন।

বাজার এবং গ্রামের মাঝদিয়ে বয়ে চলা চেল্লাখালী নদীতে দীর্ঘদিন ধরে সেতু তৈরির স্বপ্ন দেখা মানুষগুলো এখন দিশেহারা। সাপ্তাহিক হাট-বাজার করা থেকে শুরু করে গ্রাম্য বাজারটিতে নিজেদের উৎপাদিত ধান কিংবা বিভিন্ন সবজিও বিক্রি করতে পারছে না।

এক সময় ছিল শুধু নদী পারাপারের সমস্যা। এখন তার সাথে যুক্ত হয়েছে পাহাড়ী ঢলে ভেঙে যাওয়া পাকা রাস্তা। ফলে পুরো গ্রামটি এখন বাজার এবং শহরের রাস্তা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

পূর্ব দিকের ইউনিয়নবাসীকেও প্রায় ৪ কিলোমিটার ঘূরে পরিষদের অফিসে যেতে হয়। অথচ, আগে এই ২ কিলোমিটার রাস্তা পারি দিতে হতো।

সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো নদীতে একটু পানি বেশি হলেই প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থীকে নদীর ওপারে অবস্থিত পলাশীকুড়া জনতা উচ্চ বিদ্যালয়, পলাশীকুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হোসেন আলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও বেগম রৌশন আরা একাডেমিতে যেতে পারে না। আর নদীতে পাহাড়ী ঢল নামলে প্রায় ৫ কিলোমিটার পথ ঘুরে নন্নী হয়ে কিংবা বুরুঙ্গা এলাকার সীমান্ত সড়ক দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে হয়।

দীর্ঘদিন ধরে এমন অবস্থা চলতে আসলেও নতুন সরকার আসায় নতুন করে আশায় বুক বেঁধেছেন এলাকাবাসীরা। রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় কৃষি নির্ভর গ্রামটিতে বসবাসকারী মানুষের আশা, হয়তো ঠিক হয়ে যাবে রাস্তার এমন দুর্ভোগ।

এলাকাবাসীরা জানান, আগে এই রাস্তার এমন অবস্থা ছিল না। অসচেতনতাভাবে পানির রাস্তা পাল্টে দেওয়ায় এমনটা ঘটেছে। আগে ছোট কালভার্ট দিয়ে পানি গেলেও বেশ কয়েক বছর আগে পাহাড়ী ঢলে কালভার্ট ভেঙে যায়। পরে রাস্তাটি আরও বড় আকারে ভেঙে বর্তমানে এমন অবস্থা হয়েছে।

এই রাস্তা দিয়ে তিনটি গ্রামের মানুষ বারোমারী বাজারে যাতায়াত করেন। তবে ঢলে রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় এখন সীমান্ত সড়ক দিয়ে ঘুরে যেতে হয়। তাও আবার বন্যহাতির জন্য সন্ধ্যার পর আর ওই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করা যায় না।

ভেঙে যাওয়া রাস্তার পাশেই বাস করেন শামীম হক। তিনি বলেন, ২০২২ সালে পাহাড়ী ঢলে রাস্তাটি ভেঙে গেছে। এরপর থেকে আমারা মূলত ১২-১৫টি পরিবার চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছি। বাড়ি থেকে বের হওয়া কিংবা ফসল ঘরে তোলাও আমাদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, রাস্তাটি দিয়ে পলাশীকুড়ায় তিনটি এবং বারোমারীতে একটিসহ মোট চারটি স্কুলে শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করতো। এখন রাস্তা ভাঙা থাকায় তারা যেতে পারছে না। প্রায় ৫ কিলোমিটার ঘুরে নন্নী দিয়ে যেতে হয়। রাস্তাটি দ্রুত ঠিক করা হলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

এলাকার বাসিন্দা এবং বিএনপি নেতা (ওয়ার্ড সভাপতি) মো. সুরুজ্জামান সুরুজ বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকাবাসী এমন সমস্যার মধ্য দিয়ে দিন পার করছেন। কৃষি নির্ভর এলাকা হওয়ায় ধান বা সবজি আবাদ করেও বাড়িতে কিংবা বাজারে নিতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, এলাকার ছেলে-মেয়েরা এই রাস্তা দিয়ে স্কুলে যেত, এখন সেটি পারছে না। রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার করা না হলে এবারের বর্ষায় আরও খারাপ আকার ধারন করতে পারে।

এলাকার সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন TEAM-এর সভাপতি এবং ক্রীড়া সাংবাদিক রোকুনুজ্জামান সেলিম বলেন, রাস্তাটি ভেঙে যাওয়ায় আশেপাশের চার গ্রামের প্রায় ৪০ হাজার মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। রাস্তাটি ইউনিয়ন পরিষদের যাওয়ার মাধ্যম হলেও এখন সেটি আর ব্যবহার করা হচ্ছে না। পাকা রাস্তাটি দ্রুতই সংস্কার করা দরকার।

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় এমপি ফাহিম চৌধুরীকে অবগত করা হলে বিষয়টি দ্রুতই সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন

 ‍SherpurTimes24

বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬


নালিতাবাড়ীতে পাহাড়ী ঢলে পাকা রাস্তা ভেঙে বাতকুচি গ্রাম বিচ্ছিন্ন, হাজারও মানুষের দুর্ভোগ

প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬

featured Image

উজানে ভারত থেকে নেমে আসা খরস্রোতা চেল্লাখালী নদীর অর্ধেক অংশই পাহাড়ের মাঝ দিয়ে বয়ে চলেছে। পাহাড়ের ঝর্ণার পানিই নদীটির জীবন। তবে পাহাড় বেয়ে নদীতে নামা বৃষ্টির পানি এখন হয়ে উঠেছে যন্ত্রণার কারণ। পাহাড়ী ঢলে পাকা রাস্তা ভেঙে পুরো বাতকুচি গ্রাম বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

সীমান্তবর্তী নালিতাবাড়ী উপজেলার বাতকুচি গ্রামটি ১নং পোড়াগাঁও ইউনিয়নের মাঝখানে অবস্থিত। ইউনিয়ন পরিষদটি সর্ব-পশ্চিমে হওয়ায় গ্রামটি দিয়েই পুরো ইউনিয়নবাসী যাতায়াত করতেন। তবে এখন আর সেটি সম্ভব হচ্ছে না। শুধু তাই নয়, গ্রামটির পূর্বপাশে ঐতিহ্যবাহী বারোমারী বাজার থেকেও বাতকুচি গ্রামটি এখন বিচ্ছিন্ন।

বাজার এবং গ্রামের মাঝদিয়ে বয়ে চলা চেল্লাখালী নদীতে দীর্ঘদিন ধরে সেতু তৈরির স্বপ্ন দেখা মানুষগুলো এখন দিশেহারা। সাপ্তাহিক হাট-বাজার করা থেকে শুরু করে গ্রাম্য বাজারটিতে নিজেদের উৎপাদিত ধান কিংবা বিভিন্ন সবজিও বিক্রি করতে পারছে না।

এক সময় ছিল শুধু নদী পারাপারের সমস্যা। এখন তার সাথে যুক্ত হয়েছে পাহাড়ী ঢলে ভেঙে যাওয়া পাকা রাস্তা। ফলে পুরো গ্রামটি এখন বাজার এবং শহরের রাস্তা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

পূর্ব দিকের ইউনিয়নবাসীকেও প্রায় ৪ কিলোমিটার ঘূরে পরিষদের অফিসে যেতে হয়। অথচ, আগে এই ২ কিলোমিটার রাস্তা পারি দিতে হতো।

সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো নদীতে একটু পানি বেশি হলেই প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থীকে নদীর ওপারে অবস্থিত পলাশীকুড়া জনতা উচ্চ বিদ্যালয়, পলাশীকুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হোসেন আলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও বেগম রৌশন আরা একাডেমিতে যেতে পারে না। আর নদীতে পাহাড়ী ঢল নামলে প্রায় ৫ কিলোমিটার পথ ঘুরে নন্নী হয়ে কিংবা বুরুঙ্গা এলাকার সীমান্ত সড়ক দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে হয়।

দীর্ঘদিন ধরে এমন অবস্থা চলতে আসলেও নতুন সরকার আসায় নতুন করে আশায় বুক বেঁধেছেন এলাকাবাসীরা। রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় কৃষি নির্ভর গ্রামটিতে বসবাসকারী মানুষের আশা, হয়তো ঠিক হয়ে যাবে রাস্তার এমন দুর্ভোগ।

এলাকাবাসীরা জানান, আগে এই রাস্তার এমন অবস্থা ছিল না। অসচেতনতাভাবে পানির রাস্তা পাল্টে দেওয়ায় এমনটা ঘটেছে। আগে ছোট কালভার্ট দিয়ে পানি গেলেও বেশ কয়েক বছর আগে পাহাড়ী ঢলে কালভার্ট ভেঙে যায়। পরে রাস্তাটি আরও বড় আকারে ভেঙে বর্তমানে এমন অবস্থা হয়েছে।

এই রাস্তা দিয়ে তিনটি গ্রামের মানুষ বারোমারী বাজারে যাতায়াত করেন। তবে ঢলে রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় এখন সীমান্ত সড়ক দিয়ে ঘুরে যেতে হয়। তাও আবার বন্যহাতির জন্য সন্ধ্যার পর আর ওই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করা যায় না।

ভেঙে যাওয়া রাস্তার পাশেই বাস করেন শামীম হক। তিনি বলেন, ২০২২ সালে পাহাড়ী ঢলে রাস্তাটি ভেঙে গেছে। এরপর থেকে আমারা মূলত ১২-১৫টি পরিবার চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছি। বাড়ি থেকে বের হওয়া কিংবা ফসল ঘরে তোলাও আমাদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, রাস্তাটি দিয়ে পলাশীকুড়ায় তিনটি এবং বারোমারীতে একটিসহ মোট চারটি স্কুলে শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করতো। এখন রাস্তা ভাঙা থাকায় তারা যেতে পারছে না। প্রায় ৫ কিলোমিটার ঘুরে নন্নী দিয়ে যেতে হয়। রাস্তাটি দ্রুত ঠিক করা হলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

এলাকার বাসিন্দা এবং বিএনপি নেতা (ওয়ার্ড সভাপতি) মো. সুরুজ্জামান সুরুজ বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকাবাসী এমন সমস্যার মধ্য দিয়ে দিন পার করছেন। কৃষি নির্ভর এলাকা হওয়ায় ধান বা সবজি আবাদ করেও বাড়িতে কিংবা বাজারে নিতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, এলাকার ছেলে-মেয়েরা এই রাস্তা দিয়ে স্কুলে যেত, এখন সেটি পারছে না। রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার করা না হলে এবারের বর্ষায় আরও খারাপ আকার ধারন করতে পারে।

এলাকার সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন TEAM-এর সভাপতি এবং ক্রীড়া সাংবাদিক রোকুনুজ্জামান সেলিম বলেন, রাস্তাটি ভেঙে যাওয়ায় আশেপাশের চার গ্রামের প্রায় ৪০ হাজার মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। রাস্তাটি ইউনিয়ন পরিষদের যাওয়ার মাধ্যম হলেও এখন সেটি আর ব্যবহার করা হচ্ছে না। পাকা রাস্তাটি দ্রুতই সংস্কার করা দরকার।

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় এমপি ফাহিম চৌধুরীকে অবগত করা হলে বিষয়টি দ্রুতই সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান তিনি।


 ‍SherpurTimes24


কপিরাইট © ২০২৬ ‍SherpurTimes24 । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত