শেরপুর     বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬
 ‍SherpurTimes24

শেরপুরে শিক্ষার্থী ছাইব হত্যা: ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় পরিবার, অধরা মূল আসামিরা



শেরপুরে শিক্ষার্থী ছাইব হত্যা: ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় পরিবার, অধরা মূল আসামিরা
ছবি: প্রতিনিধি

শেরপুরে পলিটেকনিক শিক্ষার্থী আল-মুহতাশিম ছাইব হত্যাকাণ্ডের কয়েক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামিরা এখনো আইনের আওতার বাইরে। ফলে নিহতের পরিবার, সহপাঠী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ, হতাশা এবং বিচারহীনতার আশঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে।

রোববার (২১ জুন) সকালে শেরপুর জেলা জজ আদালতের সামনে সচেতন নাগরিক সমাজ ও শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।


মানববন্ধনে বক্তারা প্রশ্ন তোলেন, একজন শিক্ষার্থীকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যার পরও কেন এখনো মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তারা মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি পাপ্পু, নাঈম, সিনহা, স্বপন ও রিয়াদসহ অন্য অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, ঘটনার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মূল আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

মানববন্ধনে নিহত ছাইবের বাবা আব্দুল মালেক বলেন, “আমার ছেলেকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমরা কোনো প্রতিশোধ চাই না, শুধু আইনের মাধ্যমে হত্যাকারীদের বিচার চাই।”

মা রেবেকা সুলতানা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার সন্তানের জীবন আর ফিরে পাব না। তবে যারা আমার বুক খালি করেছে, তাদের যেন আইনের মুখোমুখি করা হয়।”

বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, প্রভাবশালী একটি মহলের ছত্রচ্ছায়ায় পলাতক আসামিরা আত্মগোপনে রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তার এড়াতে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ ওঠে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেন। এ সময় পুলিশ সুপার একেএম জহিরুল ইসলাম দ্রুত মূল আসামিদের গ্রেপ্তার এবং তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করার আশ্বাস দেন।

ছাইবের সহপাঠীরা বলেন, ছাইবের মৃত্যু আজ শুধু একটি পরিবারের শোক নয়, পুরো শেরপুরের শিক্ষার্থী সমাজের ক্ষোভের প্রতীক হয়ে উঠেছে। সময় যত গড়াচ্ছে, ততই জোরালো হচ্ছে একটি প্রশ্ন—একজন শিক্ষার্থীর রক্তের বিচার কি আদৌ হবে, নাকি প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় এজাহারভুক্ত আসামিরা অধরাই থেকে যাবে?

উল্লেখ্য, গত ২৯ মে ঈদুল আজহার পরদিন বিকেলে শেরপুর শহরের তাতালপুর বিএম রোড এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হামলার শিকার হন শেরপুর সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার টেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী আল-মুহতাশিম ছাইব। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে এবং পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি মারা যান।

আপনার মতামত লিখুন

 ‍SherpurTimes24

বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬


শেরপুরে শিক্ষার্থী ছাইব হত্যা: ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় পরিবার, অধরা মূল আসামিরা

প্রকাশের তারিখ : ২১ জুন ২০২৬

featured Image

শেরপুরে পলিটেকনিক শিক্ষার্থী আল-মুহতাশিম ছাইব হত্যাকাণ্ডের কয়েক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামিরা এখনো আইনের আওতার বাইরে। ফলে নিহতের পরিবার, সহপাঠী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ, হতাশা এবং বিচারহীনতার আশঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে।

রোববার (২১ জুন) সকালে শেরপুর জেলা জজ আদালতের সামনে সচেতন নাগরিক সমাজ ও শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।


মানববন্ধনে বক্তারা প্রশ্ন তোলেন, একজন শিক্ষার্থীকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যার পরও কেন এখনো মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তারা মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি পাপ্পু, নাঈম, সিনহা, স্বপন ও রিয়াদসহ অন্য অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, ঘটনার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মূল আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

মানববন্ধনে নিহত ছাইবের বাবা আব্দুল মালেক বলেন, “আমার ছেলেকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমরা কোনো প্রতিশোধ চাই না, শুধু আইনের মাধ্যমে হত্যাকারীদের বিচার চাই।”

মা রেবেকা সুলতানা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার সন্তানের জীবন আর ফিরে পাব না। তবে যারা আমার বুক খালি করেছে, তাদের যেন আইনের মুখোমুখি করা হয়।”

বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, প্রভাবশালী একটি মহলের ছত্রচ্ছায়ায় পলাতক আসামিরা আত্মগোপনে রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তার এড়াতে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ ওঠে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেন। এ সময় পুলিশ সুপার একেএম জহিরুল ইসলাম দ্রুত মূল আসামিদের গ্রেপ্তার এবং তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করার আশ্বাস দেন।

ছাইবের সহপাঠীরা বলেন, ছাইবের মৃত্যু আজ শুধু একটি পরিবারের শোক নয়, পুরো শেরপুরের শিক্ষার্থী সমাজের ক্ষোভের প্রতীক হয়ে উঠেছে। সময় যত গড়াচ্ছে, ততই জোরালো হচ্ছে একটি প্রশ্ন—একজন শিক্ষার্থীর রক্তের বিচার কি আদৌ হবে, নাকি প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় এজাহারভুক্ত আসামিরা অধরাই থেকে যাবে?

উল্লেখ্য, গত ২৯ মে ঈদুল আজহার পরদিন বিকেলে শেরপুর শহরের তাতালপুর বিএম রোড এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হামলার শিকার হন শেরপুর সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার টেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী আল-মুহতাশিম ছাইব। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে এবং পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি মারা যান।


 ‍SherpurTimes24


কপিরাইট © ২০২৬ ‍SherpurTimes24 । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত