শেরপুর     বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬
 ‍SherpurTimes24

প্রয়োজন চিকিৎসা সহায়তা

বাবাকে ক্যান্সারে হারানোর পর নিজেও ক্যান্সারে আক্রান্ত তরুণ শিক্ষক



বাবাকে ক্যান্সারে হারানোর পর নিজেও ক্যান্সারে আক্রান্ত তরুণ শিক্ষক
ছবি : প্রতিনিধি

বাবাকে ক্যান্সারে হারানোর পর বিধবা মায়ের সংসারের হাল ধরতে লেখাপড়ার পাশাপাশি স্থানীয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা শুরু করেছিলেন তরুণ শিক্ষক মো. সুফল (২৮)। স্বপ্ন ছিল পড়াশোনা শেষ করে একটি ভালো চাকরি করে পরিবারকে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনা। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস, বাবার মতো তিনিও এখন মরণঘাতী ক্যান্সারের সঙ্গে জীবন-মৃত্যুর লড়াই করছেন।


শেরপুর সদর উপজেলার চরশেরপুর দড়িপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সুফল শেরপুর সরকারি কলেজের গণিত বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের অনার্সের শিক্ষার্থী ছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষকতা করে নিজের শিক্ষার ব্যয় বহনের পাশাপাশি বিধবা মায়ের সংসারের দায়িত্বও কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালে সুফলের শরীরে ক্যান্সার ধরা পড়ে। এরপর থেকেই শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা। ধীরে ধীরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বন্ধ হয়ে যায় তার পড়াশোনা ও শিক্ষকতা। ছেলেকে বাঁচাতে প্রবাসী বড় ছেলের পাঠানো অর্থ, পরিবারের সঞ্চয় এবং ধারদেনাসহ প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা ব্যয় করেছেন তার মা আবেদা বেগম। কিছুদিন অবস্থার উন্নতি হলেও বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থার আবারও অবনতি হয়েছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সুফলকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু সেই চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় ১৫ লাখ টাকা, যা সংগ্রহ করা পরিবারের পক্ষে সম্ভব নয়।

এদিকে চিকিৎসার খরচ জোগাতে পারিবারিক জমি বিক্রির উদ্যোগ নিলে সামনে আসে আরেক বিপর্যয়। পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে থাকা পৈতৃক জমি অনেক আগেই জালিয়াতির মাধ্যমে এক চাচা নিজের নামে লিখে নিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে গ্রাম্য সালিশে জমি ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস মিললেও প্রায় আট মাস পার হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এরই মধ্যে সুফলের ক্যান্সার চতুর্থ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

সম্প্রতি সুফলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পরীক্ষা শেষে তার কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রিয় শিক্ষককে দেখতে এসেছেন। কেউ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দেখাচ্ছেন, কেউ খোঁজ নিচ্ছেন স্যারের শারীরিক অবস্থার। তাদের সবার একটাই প্রার্থনা, "স্যার সুস্থ হয়ে আবার আমাদের ক্লাসে ফিরুন।"

কান্নাজড়িত কণ্ঠে সুফল বলেন, "ছোটবেলা থেকে জানতাম, প্রয়োজনে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে চিকিৎসা করাতে পারব। কিন্তু আজ জানতে পারছি সেই জমিও আমাদের নেই। আমি বাঁচতে চাই। সুস্থ হয়ে আবার মায়ের পাশে দাঁড়াতে চাই, আমার শিক্ষার্থীদের কাছে ফিরতে চাই। দেশের সকল বিত্তবান ও মানবিক মানুষের কাছে আমার চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা কামনা করছি।"

সুফলের বাবা কয়েক বছর আগে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। সেই স্মৃতি এখনও পরিবারকে তাড়িয়ে বেড়ায়।

বিধবা মা আবেদা বেগম বলেন, "স্বামীকে ক্যান্সারে হারিয়েছি। এখন ছেলেকেও হারানোর ভয় আমাকে প্রতিনিয়ত কাঁদায়। ছেলেকে বাঁচাতে যা ছিল সব খরচ করেছি। এখন আর কোনো সামর্থ্য নেই। সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষ এগিয়ে এলে হয়তো আমার ছেলেটা নতুন জীবন ফিরে পাবে।"

শেরপুর সরকারি কলেজের গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. শামছুল হুদা চৌধুরী বলেন, "এসএসসি পরীক্ষার কারণে কলেজ বন্ধ রয়েছে। কলেজ খুললে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে সুফলের চিকিৎসার জন্য একটি তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। মানবিক মানুষদেরও তার পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাই।"

সুফলের পরিবার সমাজের বিত্তবান, প্রবাসী এবং মানবিক মানুষদের কাছে তার চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

 ‍SherpurTimes24

বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬


বাবাকে ক্যান্সারে হারানোর পর নিজেও ক্যান্সারে আক্রান্ত তরুণ শিক্ষক

প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

বাবাকে ক্যান্সারে হারানোর পর বিধবা মায়ের সংসারের হাল ধরতে লেখাপড়ার পাশাপাশি স্থানীয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা শুরু করেছিলেন তরুণ শিক্ষক মো. সুফল (২৮)। স্বপ্ন ছিল পড়াশোনা শেষ করে একটি ভালো চাকরি করে পরিবারকে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনা। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস, বাবার মতো তিনিও এখন মরণঘাতী ক্যান্সারের সঙ্গে জীবন-মৃত্যুর লড়াই করছেন।


শেরপুর সদর উপজেলার চরশেরপুর দড়িপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সুফল শেরপুর সরকারি কলেজের গণিত বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের অনার্সের শিক্ষার্থী ছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষকতা করে নিজের শিক্ষার ব্যয় বহনের পাশাপাশি বিধবা মায়ের সংসারের দায়িত্বও কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালে সুফলের শরীরে ক্যান্সার ধরা পড়ে। এরপর থেকেই শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা। ধীরে ধীরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বন্ধ হয়ে যায় তার পড়াশোনা ও শিক্ষকতা। ছেলেকে বাঁচাতে প্রবাসী বড় ছেলের পাঠানো অর্থ, পরিবারের সঞ্চয় এবং ধারদেনাসহ প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা ব্যয় করেছেন তার মা আবেদা বেগম। কিছুদিন অবস্থার উন্নতি হলেও বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থার আবারও অবনতি হয়েছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সুফলকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু সেই চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় ১৫ লাখ টাকা, যা সংগ্রহ করা পরিবারের পক্ষে সম্ভব নয়।

এদিকে চিকিৎসার খরচ জোগাতে পারিবারিক জমি বিক্রির উদ্যোগ নিলে সামনে আসে আরেক বিপর্যয়। পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে থাকা পৈতৃক জমি অনেক আগেই জালিয়াতির মাধ্যমে এক চাচা নিজের নামে লিখে নিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে গ্রাম্য সালিশে জমি ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস মিললেও প্রায় আট মাস পার হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এরই মধ্যে সুফলের ক্যান্সার চতুর্থ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

সম্প্রতি সুফলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পরীক্ষা শেষে তার কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রিয় শিক্ষককে দেখতে এসেছেন। কেউ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দেখাচ্ছেন, কেউ খোঁজ নিচ্ছেন স্যারের শারীরিক অবস্থার। তাদের সবার একটাই প্রার্থনা, "স্যার সুস্থ হয়ে আবার আমাদের ক্লাসে ফিরুন।"

কান্নাজড়িত কণ্ঠে সুফল বলেন, "ছোটবেলা থেকে জানতাম, প্রয়োজনে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে চিকিৎসা করাতে পারব। কিন্তু আজ জানতে পারছি সেই জমিও আমাদের নেই। আমি বাঁচতে চাই। সুস্থ হয়ে আবার মায়ের পাশে দাঁড়াতে চাই, আমার শিক্ষার্থীদের কাছে ফিরতে চাই। দেশের সকল বিত্তবান ও মানবিক মানুষের কাছে আমার চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা কামনা করছি।"

সুফলের বাবা কয়েক বছর আগে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। সেই স্মৃতি এখনও পরিবারকে তাড়িয়ে বেড়ায়।

বিধবা মা আবেদা বেগম বলেন, "স্বামীকে ক্যান্সারে হারিয়েছি। এখন ছেলেকেও হারানোর ভয় আমাকে প্রতিনিয়ত কাঁদায়। ছেলেকে বাঁচাতে যা ছিল সব খরচ করেছি। এখন আর কোনো সামর্থ্য নেই। সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষ এগিয়ে এলে হয়তো আমার ছেলেটা নতুন জীবন ফিরে পাবে।"

শেরপুর সরকারি কলেজের গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. শামছুল হুদা চৌধুরী বলেন, "এসএসসি পরীক্ষার কারণে কলেজ বন্ধ রয়েছে। কলেজ খুললে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে সুফলের চিকিৎসার জন্য একটি তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। মানবিক মানুষদেরও তার পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাই।"

সুফলের পরিবার সমাজের বিত্তবান, প্রবাসী এবং মানবিক মানুষদের কাছে তার চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছে।


 ‍SherpurTimes24


কপিরাইট © ২০২৬ ‍SherpurTimes24 । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত