শেরপুর     শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
 ‍SherpurTimes24

নবীর অবমাননায় মৃত্যুদণ্ডের আইন চাইলেন এমপি হানজালা



নবীর অবমাননায় মৃত্যুদণ্ডের আইন চাইলেন এমপি হানজালা

মহানবীকে (স.) কটুক্তির জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে আইন পাসের দাবি জানিয়েছেন মাদারীপুর-১ আসনের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা।

একই সঙ্গে যারা হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে শেষ নবী হিসেবে মানে না, তাদের ‘অমুসলিম’ ঘোষণা করতে সংসদ থেকে আইন করার দাবি তুলেছেন তিনি।

বুধবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে হানজালা এসব কথা বলেন।

জাতীয় সংসদের বর্তমান সদস্যতালিকায় হানজালা বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এমপি হিসেবে আছেন; দলটির বর্তমান সংসদ সদস্য দুজন।

বক্তৃতার শুরুতে হানজালা তার নির্বাচনী এলাকা শিবচরের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, তারা “ইনসাফ প্রতিষ্ঠার সেই আওয়াজগুলোকে জাতির সামনে তুলে ধরে” তাকে সংসদে পাঠিয়েছেন।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে দুইজন নির্বাচিত হওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি দলটির প্রতিষ্ঠাতা আজিজুল হক এবং বর্তমান প্রধান মামুনুল হকের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান। পরে নিজের নির্বাচনী এলাকার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে হাজী শরীয়তুল্লাহর প্রসঙ্গ তোলেন।

হানজালা বলেন, “আমরা একটি বিশাল কমিউনিটি থেকে বিলং করি। আমরা দেশ ও জাতির কণ্ঠ হয়ে কথা বলার জন্য জাতীয় সংসদে এসে দাঁড়িয়েছি।”

বিরোধী দলের ভূমিকা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, বিরোধী দল মানেই শুধু বিরোধিতা করা নয়। সরকার ভালো কাজ করলে তার প্রশংসা করা হবে, আর ভুল হলে তার প্রতিবাদও করা হবে।

তার ভাষায়, “সরকারি দল যদি ভালো কাজ করবে, বিরোধী দলের মঞ্চে দাঁড়িয়ে তাদের প্রশংসা করতে আমরা বিন্দু পরিমাণ দ্বিধা করব না।”

এ সময় সংসদ কক্ষে আরবিতে কালেমা ও ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ লেখা থাকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এসব দেখলে তাদের ভালো লাগে।

বক্তৃতার এক পর্যায়ে ধর্মীয় পরিচয়ভিত্তিক রাজনৈতিক বক্তব্যে যান হানজালা। তিনি বলেন, “বাংলার ৩০ থেকে ৪০ লক্ষ ওলামায়ে কেরাম আমাদের দিকে তাকিয়ে রয়েছে, কারণ তাদের কণ্ঠ, তাদের সে আওয়াজগুলো আমরা যেন জাতীয় সংসদ থেকে দিতে পারি।”

এরপর মহানবীর (সা.) প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “তিনি আমার শেষ নবী, যেটা কোরআন ঘোষণা দিয়েছে। নবী বলেছে ‘আমি শেষ নবী, আমার পরে কোন নবী আসবে না’।”

পরে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের একটি পার্ট রয়েছে, যে অংশ মানুষ তারা নবীকে অস্বীকার করে, তারা মুসলমান দাবি করে।”

এই অবস্থার আইনি নিষ্পত্তি চেয়ে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে হানজালা বলেন, “আপনি বাংলাদেশের একটি ইতিহাস রচনা করে যাবেন। আপনার মাধ্যমে যদি এটা স্বীকৃতি পায়, যারা নবীকে অস্বীকার করে তারা কোনোদিন মুসলমান থাকতে পারে না, এটা আইনের মাধ্যমে এ দেশের পার্লামেন্ট থেকে ঘোষণা হবে, সেটা আমরা চাই।”

নবীকে অবমাননার অভিযোগে শাস্তির প্রসঙ্গে হানজালা বলেন, “আমরা আমাদের নবীকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি।”

তার ভাষায়, “এ দেশের মানুষ নামাজ না পড়লেও যদি কেউ নবীকে কটুক্তি করে, তার কলিজা ছিঁড়ে যায়, সে রাজপথে নেমে যায়।”

এরপর তিনি সরাসরি আইন করার দাবি জানিয়ে বলেন, “আমি বলব যারা নবীকে কটুক্তি করে, নবীর নামে গালিগালাজ করে, এদের মৃত্যুদণ্ড, এই আইনটাও যেন বাংলাদেশের এই সংসদ থেকে পাস করা হয়।”

বক্তৃতায় ‘হাদি হত্যার’ বিচার দাবি করেন হানজালা। তিনি বলেন, “যে সন্তানটা ন্যায়ের পক্ষে কথা বলেছিল, ইনসাফের আওয়াজ দিয়েছিল, আমাদের মতই যুবক… তার স্বপ্ন থামিয়ে দেওয়া হয়েছে।

“এই বিচার যদি না হয়, তাহলে আমাদের মত আন্দোলনদের নিরাপত্তাও রাস্তায় কেউ দিতে পারবে না।”

পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান খেলাফত মজলিসের এই সংসদ সদস্য।


নিজের এলাকায় মাদকের বিস্তার নিয়েও তিনি সংসদে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। হানজালা বলেন, মাদকবিরোধী অবস্থান নিতে গিয়ে তিনি প্রশাসনের কাছ থেকে ‘যথেষ্ট সহযোগিতা’ পাচ্ছেন না।


তার ভাষায়, “যখন প্রশাসনের কাছে ইয়াবাসহ গাঁজাসহ দেওয়া হয়, তখন তারা কোর্টে চালান করে দেয়। তিনদিন থেকে চারদিনের মাথায় জামিন নিয়ে এলাকায় এসে আবার মাদক ব্যবসা করছে।”


আইনমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে হানজালা বলেন, ইয়াবা ও গাঁজার মত মাদকের বিরুদ্ধে আইন আরও শক্ত করতে হবে।

বিষয় : মহানবী কটুক্তি

আপনার মতামত লিখুন

 ‍SherpurTimes24

শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬


নবীর অবমাননায় মৃত্যুদণ্ডের আইন চাইলেন এমপি হানজালা

প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

মহানবীকে (স.) কটুক্তির জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে আইন পাসের দাবি জানিয়েছেন মাদারীপুর-১ আসনের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা।

একই সঙ্গে যারা হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে শেষ নবী হিসেবে মানে না, তাদের ‘অমুসলিম’ ঘোষণা করতে সংসদ থেকে আইন করার দাবি তুলেছেন তিনি।

বুধবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে হানজালা এসব কথা বলেন।

জাতীয় সংসদের বর্তমান সদস্যতালিকায় হানজালা বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এমপি হিসেবে আছেন; দলটির বর্তমান সংসদ সদস্য দুজন।

বক্তৃতার শুরুতে হানজালা তার নির্বাচনী এলাকা শিবচরের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, তারা “ইনসাফ প্রতিষ্ঠার সেই আওয়াজগুলোকে জাতির সামনে তুলে ধরে” তাকে সংসদে পাঠিয়েছেন।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে দুইজন নির্বাচিত হওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি দলটির প্রতিষ্ঠাতা আজিজুল হক এবং বর্তমান প্রধান মামুনুল হকের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান। পরে নিজের নির্বাচনী এলাকার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে হাজী শরীয়তুল্লাহর প্রসঙ্গ তোলেন।

হানজালা বলেন, “আমরা একটি বিশাল কমিউনিটি থেকে বিলং করি। আমরা দেশ ও জাতির কণ্ঠ হয়ে কথা বলার জন্য জাতীয় সংসদে এসে দাঁড়িয়েছি।”

বিরোধী দলের ভূমিকা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, বিরোধী দল মানেই শুধু বিরোধিতা করা নয়। সরকার ভালো কাজ করলে তার প্রশংসা করা হবে, আর ভুল হলে তার প্রতিবাদও করা হবে।

তার ভাষায়, “সরকারি দল যদি ভালো কাজ করবে, বিরোধী দলের মঞ্চে দাঁড়িয়ে তাদের প্রশংসা করতে আমরা বিন্দু পরিমাণ দ্বিধা করব না।”

এ সময় সংসদ কক্ষে আরবিতে কালেমা ও ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ লেখা থাকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এসব দেখলে তাদের ভালো লাগে।

বক্তৃতার এক পর্যায়ে ধর্মীয় পরিচয়ভিত্তিক রাজনৈতিক বক্তব্যে যান হানজালা। তিনি বলেন, “বাংলার ৩০ থেকে ৪০ লক্ষ ওলামায়ে কেরাম আমাদের দিকে তাকিয়ে রয়েছে, কারণ তাদের কণ্ঠ, তাদের সে আওয়াজগুলো আমরা যেন জাতীয় সংসদ থেকে দিতে পারি।”

এরপর মহানবীর (সা.) প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “তিনি আমার শেষ নবী, যেটা কোরআন ঘোষণা দিয়েছে। নবী বলেছে ‘আমি শেষ নবী, আমার পরে কোন নবী আসবে না’।”

পরে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের একটি পার্ট রয়েছে, যে অংশ মানুষ তারা নবীকে অস্বীকার করে, তারা মুসলমান দাবি করে।”

এই অবস্থার আইনি নিষ্পত্তি চেয়ে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে হানজালা বলেন, “আপনি বাংলাদেশের একটি ইতিহাস রচনা করে যাবেন। আপনার মাধ্যমে যদি এটা স্বীকৃতি পায়, যারা নবীকে অস্বীকার করে তারা কোনোদিন মুসলমান থাকতে পারে না, এটা আইনের মাধ্যমে এ দেশের পার্লামেন্ট থেকে ঘোষণা হবে, সেটা আমরা চাই।”

নবীকে অবমাননার অভিযোগে শাস্তির প্রসঙ্গে হানজালা বলেন, “আমরা আমাদের নবীকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি।”

তার ভাষায়, “এ দেশের মানুষ নামাজ না পড়লেও যদি কেউ নবীকে কটুক্তি করে, তার কলিজা ছিঁড়ে যায়, সে রাজপথে নেমে যায়।”

এরপর তিনি সরাসরি আইন করার দাবি জানিয়ে বলেন, “আমি বলব যারা নবীকে কটুক্তি করে, নবীর নামে গালিগালাজ করে, এদের মৃত্যুদণ্ড, এই আইনটাও যেন বাংলাদেশের এই সংসদ থেকে পাস করা হয়।”

বক্তৃতায় ‘হাদি হত্যার’ বিচার দাবি করেন হানজালা। তিনি বলেন, “যে সন্তানটা ন্যায়ের পক্ষে কথা বলেছিল, ইনসাফের আওয়াজ দিয়েছিল, আমাদের মতই যুবক… তার স্বপ্ন থামিয়ে দেওয়া হয়েছে।

“এই বিচার যদি না হয়, তাহলে আমাদের মত আন্দোলনদের নিরাপত্তাও রাস্তায় কেউ দিতে পারবে না।”

পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান খেলাফত মজলিসের এই সংসদ সদস্য।


নিজের এলাকায় মাদকের বিস্তার নিয়েও তিনি সংসদে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। হানজালা বলেন, মাদকবিরোধী অবস্থান নিতে গিয়ে তিনি প্রশাসনের কাছ থেকে ‘যথেষ্ট সহযোগিতা’ পাচ্ছেন না।


তার ভাষায়, “যখন প্রশাসনের কাছে ইয়াবাসহ গাঁজাসহ দেওয়া হয়, তখন তারা কোর্টে চালান করে দেয়। তিনদিন থেকে চারদিনের মাথায় জামিন নিয়ে এলাকায় এসে আবার মাদক ব্যবসা করছে।”


আইনমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে হানজালা বলেন, ইয়াবা ও গাঁজার মত মাদকের বিরুদ্ধে আইন আরও শক্ত করতে হবে।


 ‍SherpurTimes24


কপিরাইট © ২০২৬ ‍SherpurTimes24 । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত