শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার ঝগড়ারচর বাজার থেকে শেরপুর সদরের হেরুয়া বাজার পর্যন্ত ৩ হাজার ৭৫০ মিটার সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ শুরু করেছিল স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। তবে, সড়কের একপাশে কিছু অংশ খুঁড়ে রেখে দীর্ঘ ২৮ মাস ধরে উধাও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের লোকজন। ফলে কাজ বন্ধ থাকায় বেহাল সড়ক দিয়ে চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী ও স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, সড়কের এমন অবস্থার কারণে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। তাই দ্রুত কাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ২০ ডিসেম্বর প্রায় ৫ কোটি ৩৫ লাখ ৯৩ হাজার টাকা ব্যয়ে ঝগড়ারচর বাজার থেকে হেরুয়া বাজার পর্যন্ত তিন হাজার ৭৫০ মিটার সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়। টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাজটি পায় বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন লিমিটেড নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছিল এক বছর এবং ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। প্রকল্প অনুযায়ী, রাস্তার উভয় পাশে ১.২৫ মিটার করে প্রশস্ত করা হবে। কিন্তু কাজ শুরুর কিছুদিন পরই সড়কের একপাশে বিভিন্নস্থানে খননকাজ করে ফেলে রাখা হয়। এরপর গেল ২৬ মাস ধরে কাজ ফেলে উধাও হয়ে যায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন।
স্থানীয়রা জানান, সংস্কারকাজটি তদারকির দায়িত্বে ছিলেন শেরপুরের কিছু স্থানীয় প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতারা। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। এরপর থেকে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ। দীর্ঘ সময় ধরে কাজ বন্ধ থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেয়নি এলজিইডি। ফলে সড়কের বিভিন্নস্থানে খোঁড়াখুঁড়ি করে ফেলে রাখায় যানবাহন চলাচল মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দিনে কোনোভাবে যানবাহন চলাচল করা গেলেও রাতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। সরু রাস্তা ও পাশের অংশ খুঁড়ে রাখার কারণে দুটি গাড়ি একসাথে পারাপার হতে গেলে প্রায়ই দুর্ঘটনা হচ্ছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে শেরপুর সদর, শ্রীবরদী উপজেলা, জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলা ও বকসীগঞ্জের একাংশে হাজারো মানুষ চলাচল করেন। সড়কটি কৃষিপণ্য পরিবহন, বাজারে যাতায়াত এবং শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারকাজ বন্ধ থাকায় এলাকাবাসী চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তাই দ্রুত সড়কটির সংস্কার শেষ করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একইসাথে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি তাদের।
ঝগড়ারচর এলাকার বাসিন্দা হেলাল মিয়া বলেন, ‘ভাই ছবি তুলে কি করবেন? কত বেডা আইলো, ছবি তুললো, কিন্তু আমগর সড়কের কাজটাই আর হইলো না। কি যে কষ্ট করতাছি, সেটা আপনাদের বুঝানো যাবে না। আপানার কয়দিন এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে দেহুন, কি যে কষ্ট।’
একই এলাকার বাসিন্দা লতিফ মিয়া বলেন, ‘২বছরের বেশি সময় ধরে রাস্তা এভাবে পড়ে আছে। কিন্তু কেউ আসে না এই রাস্তাটা ঠিক করতে। আমাদের আর রাস্তা ঠিক করা দরকার নাই। আমরা আগেরমতো রাস্তাটা চাই। আমাদের রাস্তা বড় করার আর দরকার নাই। রাস্তা পাশে গাতা (গর্ত) এগুলো মুনজাই (মাটি দিয়ে ভরাট করে) দেন।’
ওই এলাকার বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তাটি কাদায় পরিণত হয়, আর শুকনো মৌসুমে গর্ত আর ধুলায় চলাচল করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। স্কুল-কলেজে পড়ুয়া ছাত্রছাত্রী, অসুস্থ রোগী কিংবা সাধারণ মানুষ সবারই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে রাতে চলাচল করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়। এ সড়কে প্রায় প্রতিদিনই ছোট-খাটো দুর্ঘটনা ঘটছে।’
স্থানীয় ব্যবসায়ী রমজান আলী বলেন, ‘এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন বাজারে যেতে হয়। কিন্তু সড়কের অবস্থা এতটাই খারাপ যে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা যায় না। গাড়ি নিয়ে গেলে প্রায়ই গর্তে পড়ে নষ্ট হয়ে যায়, আবার অনেক সময় পণ্য পরিবহন করাও কঠিন হয়ে পড়ে। এতে ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। আগে এই রাস্তা দিয়ে সহজেই মালামাল আনা-নেওয়া করা যেত, কিন্তু এখন পরিস্থিতি একেবারেই খারাপ। অনেক পরিবহন চালক এই পথে আসতে চান না।’
স্থানীয় কৃষক মানিক মিয়া বলেন, ‘আমরা কৃষিকাজ করেই সংসার চালাই। মাঠে ফসল; যেমন- ধান, সবজিসহ অন্যান্য ফসল বাজারে নিয়ে বিক্রি করতে হয়। কিন্তু রাস্তা খারাপ থাকায় আমাদের অনেক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। ভ্যান বা অন্য যানবাহন ভাড়া করতে গেলে চালকরা বেশি টাকা দাবি করেন, কারণ এই ভাঙা রাস্তায় গাড়ি চালাতে তাদেরও ঝুঁকি থাকে। এতে আমাদের উৎপাদিত ফসলের লাভ অনেক কমে যাচ্ছে। কখনো কখনো সময়মতো বাজারে পৌঁছাতে না পারায় ফসল নষ্ট হয় এবং বিক্রি না হওয়ায় বাড়িতেই ফিরিয়ে আনতে হয়।’
স্থানীয় অটোরিকশাচালক সাইফুল মিয়া বলেন, ‘মেলাদিন ধরে রাস্তাটি এমন দুরবস্থা থাকলেও এখন পর্যন্ত কেউ ঠিক করার উদ্যোগ নেয়নি। ভাঙাচোরা ও গর্তে ভরা এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। আমার একার না, অনেক অটোরিক্সা বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আবার মেরামতের জন্য বাড়তি টাকা খরচ হচ্ছে। যাত্রীরাও এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে ভয় পান, যার কারণে যাত্রীসংখ্যা কমে যাচ্ছে এবং আয়ও কমে গেছে।’
এদিকে, এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনের সাথে বার বার যোগাযোগ করেও তাদের কোন সাড়া মেলেনি। তবে, পলাতক ঠিকাদারকে চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া কথা জানিয়েছে উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর।
শ্রীবরদী উপজেলা এলজিইডি’র প্রকৌশলী মশিউর রহমান খবরের কাগজকে জানান, শ্রীবরদী উপজেলার ঝগড়ারচর থেকে শেরপুর পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে, কারণ প্রকল্পটির দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার দীর্ঘ সময় ধরে পলাতক অবস্থায় আছেন। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এনে প্রয়োজনীয় সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া মাত্রই পলাতক ঠিকাদারের কার্যাদেশ বাতিল করে দ্রুত নতুন টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ পুনরায় শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, সড়কটি স্থানীয় জনগণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় দ্রুত কাজ সম্পন্ন করতে কাজ চলছে। সড়কটির কাজ শেষ হলে শ্রীবরদী ও শেরপুরের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হয় এবং এলাকাবাসী নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবেন।

রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ মে ২০২৬
শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার ঝগড়ারচর বাজার থেকে শেরপুর সদরের হেরুয়া বাজার পর্যন্ত ৩ হাজার ৭৫০ মিটার সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ শুরু করেছিল স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। তবে, সড়কের একপাশে কিছু অংশ খুঁড়ে রেখে দীর্ঘ ২৮ মাস ধরে উধাও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের লোকজন। ফলে কাজ বন্ধ থাকায় বেহাল সড়ক দিয়ে চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী ও স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, সড়কের এমন অবস্থার কারণে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। তাই দ্রুত কাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ২০ ডিসেম্বর প্রায় ৫ কোটি ৩৫ লাখ ৯৩ হাজার টাকা ব্যয়ে ঝগড়ারচর বাজার থেকে হেরুয়া বাজার পর্যন্ত তিন হাজার ৭৫০ মিটার সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়। টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাজটি পায় বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন লিমিটেড নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছিল এক বছর এবং ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। প্রকল্প অনুযায়ী, রাস্তার উভয় পাশে ১.২৫ মিটার করে প্রশস্ত করা হবে। কিন্তু কাজ শুরুর কিছুদিন পরই সড়কের একপাশে বিভিন্নস্থানে খননকাজ করে ফেলে রাখা হয়। এরপর গেল ২৬ মাস ধরে কাজ ফেলে উধাও হয়ে যায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন।
স্থানীয়রা জানান, সংস্কারকাজটি তদারকির দায়িত্বে ছিলেন শেরপুরের কিছু স্থানীয় প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতারা। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। এরপর থেকে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ। দীর্ঘ সময় ধরে কাজ বন্ধ থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেয়নি এলজিইডি। ফলে সড়কের বিভিন্নস্থানে খোঁড়াখুঁড়ি করে ফেলে রাখায় যানবাহন চলাচল মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দিনে কোনোভাবে যানবাহন চলাচল করা গেলেও রাতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। সরু রাস্তা ও পাশের অংশ খুঁড়ে রাখার কারণে দুটি গাড়ি একসাথে পারাপার হতে গেলে প্রায়ই দুর্ঘটনা হচ্ছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে শেরপুর সদর, শ্রীবরদী উপজেলা, জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলা ও বকসীগঞ্জের একাংশে হাজারো মানুষ চলাচল করেন। সড়কটি কৃষিপণ্য পরিবহন, বাজারে যাতায়াত এবং শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারকাজ বন্ধ থাকায় এলাকাবাসী চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তাই দ্রুত সড়কটির সংস্কার শেষ করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একইসাথে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি তাদের।
ঝগড়ারচর এলাকার বাসিন্দা হেলাল মিয়া বলেন, ‘ভাই ছবি তুলে কি করবেন? কত বেডা আইলো, ছবি তুললো, কিন্তু আমগর সড়কের কাজটাই আর হইলো না। কি যে কষ্ট করতাছি, সেটা আপনাদের বুঝানো যাবে না। আপানার কয়দিন এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে দেহুন, কি যে কষ্ট।’
একই এলাকার বাসিন্দা লতিফ মিয়া বলেন, ‘২বছরের বেশি সময় ধরে রাস্তা এভাবে পড়ে আছে। কিন্তু কেউ আসে না এই রাস্তাটা ঠিক করতে। আমাদের আর রাস্তা ঠিক করা দরকার নাই। আমরা আগেরমতো রাস্তাটা চাই। আমাদের রাস্তা বড় করার আর দরকার নাই। রাস্তা পাশে গাতা (গর্ত) এগুলো মুনজাই (মাটি দিয়ে ভরাট করে) দেন।’
ওই এলাকার বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তাটি কাদায় পরিণত হয়, আর শুকনো মৌসুমে গর্ত আর ধুলায় চলাচল করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। স্কুল-কলেজে পড়ুয়া ছাত্রছাত্রী, অসুস্থ রোগী কিংবা সাধারণ মানুষ সবারই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে রাতে চলাচল করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়। এ সড়কে প্রায় প্রতিদিনই ছোট-খাটো দুর্ঘটনা ঘটছে।’
স্থানীয় ব্যবসায়ী রমজান আলী বলেন, ‘এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন বাজারে যেতে হয়। কিন্তু সড়কের অবস্থা এতটাই খারাপ যে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা যায় না। গাড়ি নিয়ে গেলে প্রায়ই গর্তে পড়ে নষ্ট হয়ে যায়, আবার অনেক সময় পণ্য পরিবহন করাও কঠিন হয়ে পড়ে। এতে ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। আগে এই রাস্তা দিয়ে সহজেই মালামাল আনা-নেওয়া করা যেত, কিন্তু এখন পরিস্থিতি একেবারেই খারাপ। অনেক পরিবহন চালক এই পথে আসতে চান না।’
স্থানীয় কৃষক মানিক মিয়া বলেন, ‘আমরা কৃষিকাজ করেই সংসার চালাই। মাঠে ফসল; যেমন- ধান, সবজিসহ অন্যান্য ফসল বাজারে নিয়ে বিক্রি করতে হয়। কিন্তু রাস্তা খারাপ থাকায় আমাদের অনেক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। ভ্যান বা অন্য যানবাহন ভাড়া করতে গেলে চালকরা বেশি টাকা দাবি করেন, কারণ এই ভাঙা রাস্তায় গাড়ি চালাতে তাদেরও ঝুঁকি থাকে। এতে আমাদের উৎপাদিত ফসলের লাভ অনেক কমে যাচ্ছে। কখনো কখনো সময়মতো বাজারে পৌঁছাতে না পারায় ফসল নষ্ট হয় এবং বিক্রি না হওয়ায় বাড়িতেই ফিরিয়ে আনতে হয়।’
স্থানীয় অটোরিকশাচালক সাইফুল মিয়া বলেন, ‘মেলাদিন ধরে রাস্তাটি এমন দুরবস্থা থাকলেও এখন পর্যন্ত কেউ ঠিক করার উদ্যোগ নেয়নি। ভাঙাচোরা ও গর্তে ভরা এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। আমার একার না, অনেক অটোরিক্সা বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আবার মেরামতের জন্য বাড়তি টাকা খরচ হচ্ছে। যাত্রীরাও এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে ভয় পান, যার কারণে যাত্রীসংখ্যা কমে যাচ্ছে এবং আয়ও কমে গেছে।’
এদিকে, এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনের সাথে বার বার যোগাযোগ করেও তাদের কোন সাড়া মেলেনি। তবে, পলাতক ঠিকাদারকে চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া কথা জানিয়েছে উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর।
শ্রীবরদী উপজেলা এলজিইডি’র প্রকৌশলী মশিউর রহমান খবরের কাগজকে জানান, শ্রীবরদী উপজেলার ঝগড়ারচর থেকে শেরপুর পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে, কারণ প্রকল্পটির দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার দীর্ঘ সময় ধরে পলাতক অবস্থায় আছেন। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এনে প্রয়োজনীয় সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া মাত্রই পলাতক ঠিকাদারের কার্যাদেশ বাতিল করে দ্রুত নতুন টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ পুনরায় শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, সড়কটি স্থানীয় জনগণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় দ্রুত কাজ সম্পন্ন করতে কাজ চলছে। সড়কটির কাজ শেষ হলে শ্রীবরদী ও শেরপুরের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হয় এবং এলাকাবাসী নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবেন।

আপনার মতামত লিখুন