শেরপুর     মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
 ‍SherpurTimes24

আসিফের বাবার আক্ষেপ,আজও ছেলে হত্যার বিচার পেলাম না



আসিফের বাবার আক্ষেপ,আজও ছেলে হত্যার বিচার পেলাম না
ছবি : প্রতিনিধি

গত রোববার ছিলো কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিহত আসিফুর রহমান আসিফের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী । তিনি শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার কেরেঙ্গাপাড়া গ্রামের আমজাদ হোসেন ও ফজিলা খাতুন দম্পতির দ্বিতীয় ছেলে। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনে মারা যান আসিফ।


পরিবারের দেওয়া তথ্যমতে, ওইদিন বিকেলে বন্ধুদের সাথে দেখা করার জন্য বাড়ি থেকে বের হয় আসিফ। পরে রাস্তাতেই কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলি এসে তার মাথায় লাগে। সেখান থেকে স্থানীয়রা তাকে মিরপুর আলোক হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে তার বাবা আমজাদ আলী ফোনে ছেলের অ্যাঙ্েিডন্টের খবর শোনে আলোক হাসপাতাল গিয়ে দেখে আসিফের মাথার ডানপাশে গুলি লেগেছে। সেখান থেকে ছেলেকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে ব্যান্ডেজ করিয়ে রিকশায় নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার আসিফকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে লাশ নিয়ে এসে গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হয়। পরবর্তীতে সরকার পতনের পর ওই বছরের ২ নভেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২০১ জনকে আসামি করে ঢাকার একটি আদালতে আসিফের বাবা আমজাদ হোসেন বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের কিছুদিন পর আসিফের গ্রামের বাড়ি কেরেঙ্গাপাড়া কবরস্থান থেকে মরদেহ উত্তোলন করা হয় সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন সম্পন্নের জন্য।

আসিফের মা ফজিলা খাতুন জানান, দুই ছেলে চার মেয়ের মধ্যে আসিফ ছিল দ্বিতীয়। বাবা আমজাদ হোসেন ছোটখাটো ব্যবসা করে যখন পরিবারের খরচ মেটাতে পারছিল না, তখন আসিফ ঢাকায় গিয়ে গার্মেন্টসে চাকরি নেয়। ১৩ হাজার টাকা বেতনের চাকরিতে ভালোই দিন চলছিল। স্মৃতিচারণের সময় আসিফের পরিবারের সদস্যদের চোখ থেকে পানি পড়ছিল।

আসিফের বাবা আমজাদ হোসেন বলেন, দুই বছর হলো ছেলে মারা গেছে। ছেলে তো আর ফিরবে না, বিচারের আশায় মামলা করছিলাম। আজও ছেলে আসিফে হত্যার বিচার পেলাম না। ছেলের রক্তেভেজা সেদিনের সেই শার্টটা দেখিয়ে তিনি বলেন, এটাই আমার ছেলের শেষ স্মৃতি, আর্থিক সহায়তা পেয়েছি, সম্মান পেয়েছি, কিন্তু বিচার তো পেলাম না। ছেলে হত্যার দ্রুত বিচার দাবি করেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন

 ‍SherpurTimes24

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬


আসিফের বাবার আক্ষেপ,আজও ছেলে হত্যার বিচার পেলাম না

প্রকাশের তারিখ : ২০ জুলাই ২০২৬

featured Image

গত রোববার ছিলো কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিহত আসিফুর রহমান আসিফের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী । তিনি শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার কেরেঙ্গাপাড়া গ্রামের আমজাদ হোসেন ও ফজিলা খাতুন দম্পতির দ্বিতীয় ছেলে। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনে মারা যান আসিফ।


পরিবারের দেওয়া তথ্যমতে, ওইদিন বিকেলে বন্ধুদের সাথে দেখা করার জন্য বাড়ি থেকে বের হয় আসিফ। পরে রাস্তাতেই কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলি এসে তার মাথায় লাগে। সেখান থেকে স্থানীয়রা তাকে মিরপুর আলোক হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে তার বাবা আমজাদ আলী ফোনে ছেলের অ্যাঙ্েিডন্টের খবর শোনে আলোক হাসপাতাল গিয়ে দেখে আসিফের মাথার ডানপাশে গুলি লেগেছে। সেখান থেকে ছেলেকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে ব্যান্ডেজ করিয়ে রিকশায় নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার আসিফকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে লাশ নিয়ে এসে গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হয়। পরবর্তীতে সরকার পতনের পর ওই বছরের ২ নভেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২০১ জনকে আসামি করে ঢাকার একটি আদালতে আসিফের বাবা আমজাদ হোসেন বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের কিছুদিন পর আসিফের গ্রামের বাড়ি কেরেঙ্গাপাড়া কবরস্থান থেকে মরদেহ উত্তোলন করা হয় সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন সম্পন্নের জন্য।

আসিফের মা ফজিলা খাতুন জানান, দুই ছেলে চার মেয়ের মধ্যে আসিফ ছিল দ্বিতীয়। বাবা আমজাদ হোসেন ছোটখাটো ব্যবসা করে যখন পরিবারের খরচ মেটাতে পারছিল না, তখন আসিফ ঢাকায় গিয়ে গার্মেন্টসে চাকরি নেয়। ১৩ হাজার টাকা বেতনের চাকরিতে ভালোই দিন চলছিল। স্মৃতিচারণের সময় আসিফের পরিবারের সদস্যদের চোখ থেকে পানি পড়ছিল।

আসিফের বাবা আমজাদ হোসেন বলেন, দুই বছর হলো ছেলে মারা গেছে। ছেলে তো আর ফিরবে না, বিচারের আশায় মামলা করছিলাম। আজও ছেলে আসিফে হত্যার বিচার পেলাম না। ছেলের রক্তেভেজা সেদিনের সেই শার্টটা দেখিয়ে তিনি বলেন, এটাই আমার ছেলের শেষ স্মৃতি, আর্থিক সহায়তা পেয়েছি, সম্মান পেয়েছি, কিন্তু বিচার তো পেলাম না। ছেলে হত্যার দ্রুত বিচার দাবি করেন তিনি।


 ‍SherpurTimes24


কপিরাইট © ২০২৬ ‍SherpurTimes24 । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত