শেরপুর     মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
 ‍SherpurTimes24

শেরপুরে পানির তোড়ে ব্রিজ ভেঙে নদীতে, রক্ষা পেলো মানুষ



শেরপুরে পানির তোড়ে ব্রিজ ভেঙে নদীতে, রক্ষা পেলো মানুষ
ছবি : প্রতিনিধি

টানা দুইদিনের থেমে থেমে ভারি বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে পুরোনো একটি লোহার ব্রিজ ভেঙে পানিতে ডুবে গেছে।

সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে উপজেলার নয়াপাড়া দক্ষিণ সন্ন্যাসীভিটা এলাকায় চেল্লাখালী নদীর ওপর ওই ব্রিজটি ডুবে যায়।


স্থানীয়রা জানান, দুপুরের দিকে নদীর পানি বেড়ে ব্রিজটি সম্পূর্ণ তলিয়ে যায়। এ সময় দুই পাড়ের মানুষ নিরাপদে সরে যেতে পারলেও ব্রিজের মাঝখানে থাকা দুই শিশু ও দুই যুবক পানির স্রোতে ভেসে যান। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় চারজনই নিরাপদে নদীর তীরে উঠে আসেন।

তারা আরও জানান, ব্রিজটি দীর্ঘদিনের পুরোনো। অতীতেও কয়েকবার পাহাড়ি ঢলের পানি ব্রিজের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও কখনো এটি ভেঙে যায়নি। তবে, এবার পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতের চাপ সহ্য করতে না পেরে ব্রিজটি ধসে পড়ে।

সন্ন্যাসীভিটা এলাকার বাসিন্দা হেলাল মিয়া বলেন, আমার চোখের সামনেই ব্রিজটি নদীতে তলিয়ে যায়। পানির স্রোত এতটাই বেশি ছিল যে কিছুই করার সুযোগ ছিল না। পরে আমরা কয়েকজন মিলে পানিতে ভেসে যাওয়া চারজনকে উদ্ধার করি।

একই এলাকার কুব্বাত আলী বলেন, রাতে প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে। সকাল থেকেই নদীর পানি বাড়ছিল। দুপুর ১২টার পর ব্রিজটি ভেঙে নদীতে তলিয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা তালেব আলী জানান, ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় অন্তত ৪০০ পরিবারের মানুষের নদীর ওপারে যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি এপারের আরও প্রায় ৬০০ পরিবারের মানুষও চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। দ্রুত সেখানে নতুন একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

এদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, নালিতাবাড়ী উপজেলার চেল্লাখালী নদীর বাতকুচি পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ৫৪ সেন্টিমিটার এবং ভোগাই নদীর পানি বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া ঝিনাইগাতীর মহারশি ও শ্রীবরদী উপজেলার সোমেশ্বরী নদীতেও পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুদীপ্ত চৌধুরী বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় শেরপুর পয়েন্টে ২৯ মিলিমিটার এবং নালিতাবাড়ী পয়েন্টে ২৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে, দুপুরের পর থেকে পানি দ্রুত নামতে শুরু করায় আপতত বৃন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে না।

নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল মালেক বলেন, ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ার খবর পেয়েছি। খুব শিগগিরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

 ‍SherpurTimes24

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬


শেরপুরে পানির তোড়ে ব্রিজ ভেঙে নদীতে, রক্ষা পেলো মানুষ

প্রকাশের তারিখ : ২০ জুলাই ২০২৬

featured Image

টানা দুইদিনের থেমে থেমে ভারি বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে পুরোনো একটি লোহার ব্রিজ ভেঙে পানিতে ডুবে গেছে।

সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে উপজেলার নয়াপাড়া দক্ষিণ সন্ন্যাসীভিটা এলাকায় চেল্লাখালী নদীর ওপর ওই ব্রিজটি ডুবে যায়।


স্থানীয়রা জানান, দুপুরের দিকে নদীর পানি বেড়ে ব্রিজটি সম্পূর্ণ তলিয়ে যায়। এ সময় দুই পাড়ের মানুষ নিরাপদে সরে যেতে পারলেও ব্রিজের মাঝখানে থাকা দুই শিশু ও দুই যুবক পানির স্রোতে ভেসে যান। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় চারজনই নিরাপদে নদীর তীরে উঠে আসেন।

তারা আরও জানান, ব্রিজটি দীর্ঘদিনের পুরোনো। অতীতেও কয়েকবার পাহাড়ি ঢলের পানি ব্রিজের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও কখনো এটি ভেঙে যায়নি। তবে, এবার পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতের চাপ সহ্য করতে না পেরে ব্রিজটি ধসে পড়ে।

সন্ন্যাসীভিটা এলাকার বাসিন্দা হেলাল মিয়া বলেন, আমার চোখের সামনেই ব্রিজটি নদীতে তলিয়ে যায়। পানির স্রোত এতটাই বেশি ছিল যে কিছুই করার সুযোগ ছিল না। পরে আমরা কয়েকজন মিলে পানিতে ভেসে যাওয়া চারজনকে উদ্ধার করি।

একই এলাকার কুব্বাত আলী বলেন, রাতে প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে। সকাল থেকেই নদীর পানি বাড়ছিল। দুপুর ১২টার পর ব্রিজটি ভেঙে নদীতে তলিয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা তালেব আলী জানান, ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় অন্তত ৪০০ পরিবারের মানুষের নদীর ওপারে যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি এপারের আরও প্রায় ৬০০ পরিবারের মানুষও চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। দ্রুত সেখানে নতুন একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

এদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, নালিতাবাড়ী উপজেলার চেল্লাখালী নদীর বাতকুচি পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ৫৪ সেন্টিমিটার এবং ভোগাই নদীর পানি বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া ঝিনাইগাতীর মহারশি ও শ্রীবরদী উপজেলার সোমেশ্বরী নদীতেও পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুদীপ্ত চৌধুরী বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় শেরপুর পয়েন্টে ২৯ মিলিমিটার এবং নালিতাবাড়ী পয়েন্টে ২৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে, দুপুরের পর থেকে পানি দ্রুত নামতে শুরু করায় আপতত বৃন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে না।

নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল মালেক বলেন, ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ার খবর পেয়েছি। খুব শিগগিরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


 ‍SherpurTimes24


কপিরাইট © ২০২৬ ‍SherpurTimes24 । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত