শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে রোগী ভর্তির সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বৃহস্পতিবার ১৪ মে বিকাল পযন্ত পর্যন্ত আগের রোগীসহ মোট ৪৬ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত তিনজনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১৪৯ জন শিশু চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে এসেছে। তাদের মধ্যে ৯৮ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ৮৯টি নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত তিনজনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া ৫২ জন বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন।
বর্তমানে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ৪৬ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। অন্যরা বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। এবং অনেকেই সুস্থ হয়েছে তবে শেরপুর এখন পর্যন্ত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
বৃহস্পতিবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সেলিম মিয়া। তিনি বলেন, হামের উপসর্গ নিয়ে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আমরা নিয়মিত তাদের পর্যবেক্ষণে রেখেছি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
তবে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজনরা ওষুধ সংকটের অভিযোগ করেছেন। ছয় মাস বয়সী শিশু সাইমার নানী বলেন, হাসপাতালে এসে শুধু এক-দুইটা ইনজেকশন দেয়, আর ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়। আমরা গরিব মানুষ, খুব কষ্টে আছি। পাঁচ দিন ধরে হাসপাতালে আছি, কেউ দেখেও না।
আরেক স্বজন তাহমিনা আক্তার বলেন, ডাক্তার ভালো, পরিবেশও মোটামুটি। কিন্তু কোনো ওষুধ দেয় না, সব বাইরে থেকে কিনতে হয়। বাচ্চারা খুব কষ্টে আছে।
এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ শাহিন বলেন, জেলায় হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি চলমান রয়েছে। ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালে ওষুধ না দেওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, শেরপুর জেলাসদর হাসপাতালে হামের জন্য আলাদা ইউনিট চালু করা হয়েছে। শুরুতে ৮ জনের ব্যবস্থা থাকলেও বর্তমানে তা বাড়িয়ে ২০ জনের করা হয়েছে।তবে রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, হামের উপসর্গ দেখা দিলে রোগীকে আলাদা রাখতে হবে। পাশাপাশি মাস্ক ব্যবহার, নিয়মিত হাত ধোয়া এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জেলায় মোট ১ লাখ ৬১ হাজার ৪৩২ জন শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ৭৭৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ মোট ১ হাজার ৩৩৫টি কেন্দ্রে টিকাদান কার্যক্রম শেষ হয়েছে । হাসপাতালে টিকা দান কর্মসূচি চলমান রয়েছে।

শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ মে ২০২৬
শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে রোগী ভর্তির সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বৃহস্পতিবার ১৪ মে বিকাল পযন্ত পর্যন্ত আগের রোগীসহ মোট ৪৬ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত তিনজনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১৪৯ জন শিশু চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে এসেছে। তাদের মধ্যে ৯৮ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ৮৯টি নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত তিনজনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া ৫২ জন বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন।
বর্তমানে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ৪৬ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। অন্যরা বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। এবং অনেকেই সুস্থ হয়েছে তবে শেরপুর এখন পর্যন্ত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
বৃহস্পতিবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সেলিম মিয়া। তিনি বলেন, হামের উপসর্গ নিয়ে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আমরা নিয়মিত তাদের পর্যবেক্ষণে রেখেছি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
তবে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজনরা ওষুধ সংকটের অভিযোগ করেছেন। ছয় মাস বয়সী শিশু সাইমার নানী বলেন, হাসপাতালে এসে শুধু এক-দুইটা ইনজেকশন দেয়, আর ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়। আমরা গরিব মানুষ, খুব কষ্টে আছি। পাঁচ দিন ধরে হাসপাতালে আছি, কেউ দেখেও না।
আরেক স্বজন তাহমিনা আক্তার বলেন, ডাক্তার ভালো, পরিবেশও মোটামুটি। কিন্তু কোনো ওষুধ দেয় না, সব বাইরে থেকে কিনতে হয়। বাচ্চারা খুব কষ্টে আছে।
এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ শাহিন বলেন, জেলায় হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি চলমান রয়েছে। ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালে ওষুধ না দেওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, শেরপুর জেলাসদর হাসপাতালে হামের জন্য আলাদা ইউনিট চালু করা হয়েছে। শুরুতে ৮ জনের ব্যবস্থা থাকলেও বর্তমানে তা বাড়িয়ে ২০ জনের করা হয়েছে।তবে রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, হামের উপসর্গ দেখা দিলে রোগীকে আলাদা রাখতে হবে। পাশাপাশি মাস্ক ব্যবহার, নিয়মিত হাত ধোয়া এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জেলায় মোট ১ লাখ ৬১ হাজার ৪৩২ জন শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ৭৭৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ মোট ১ হাজার ৩৩৫টি কেন্দ্রে টিকাদান কার্যক্রম শেষ হয়েছে । হাসপাতালে টিকা দান কর্মসূচি চলমান রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন