শেরপুর     শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬
 ‍SherpurTimes24

জামালপুরে ১৫০ এতিম শিক্ষার্থীদের মাঝে দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটির শিক্ষাবৃত্তি বিতরণ



জামালপুরে ১৫০ এতিম শিক্ষার্থীদের মাঝে দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটির শিক্ষাবৃত্তি বিতরণ
ছবি: প্রতিনিধি

সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটির উদ্যোগে জামালপুরে ১৫০ জন এতিম শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। কোনো শিশুই যেন আর্থিক সংকটের কারণে ঝরে না পড়ে এবং এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীরা যেন আত্মমর্যাদার সঙ্গে তাদের শিক্ষাজীবন এগিয়ে নিতে পারে এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এ কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের হাতে তিন মাসের শিক্ষাবৃত্তির অর্থ তুলে দেওয়া হয়।


৪ জুলাই (শনিবার) সকালে দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটির প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত শিক্ষাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর পরিচালক (যুগ্মসচিব) ব্যারিস্টার মো. খলিলুর রহমান খান, এনডিসি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জামালপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজনীন আখতার।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটির হেড অব অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড অ্যাডমিন কহিনুর আলম চৌধুরী, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার শাহাদৎ হোসেন এবং জামালপুর জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সাংবাদিক ফজলে এলাহী মাকাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংস্থার প্রজেক্ট ম্যানেজার আবুল কায়েস।

অনুষ্ঠানে ১৫০ জন এতিম শিক্ষার্থীর মাঝে তিন মাসের শিক্ষাবৃত্তির অর্থ হিসেবে মোট ১১ লাখ ২৫ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি তাদের অভিভাবক, সুধীজন, গণমাধ্যমকর্মী এবং দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার মো. খলিলুর রহমান খান বলেন, শিক্ষা একটি জাতির উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি। সমাজের পিছিয়ে পড়া ও এতিম শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিত করা কেবল সরকারের একার দায়িত্ব নয়; বরং সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর এ দায়িত্ব ভাগ করে নিতে হবে। তিনি বলেন, দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটি যে নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও মানবিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে এতিম শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজনীন আখতার বলেন, একটি শিশুর জীবনে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হলো তার শিক্ষা। আর্থিক সংকটের কারণে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ব্যাহত হওয়া উচিত নয়। তিনি বলেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি ও সামাজিক সংগঠনগুলোর এ ধরনের কার্যক্রম দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তিনি দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটির এ মানবিক উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

বক্তব্যে দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটির হেড অব অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড অ্যাডমিন কহিনুর আলম চৌধুরী বলেন, দোস্ত এইড বিশ্বাস করে—একজন শিশুকে শিক্ষিত করে তুলতে পারলে একটি পরিবার, এমনকি একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়া সম্ভব। তাই সংস্থাটি শুধু শিক্ষাবৃত্তি প্রদানেই সীমাবদ্ধ নয়; শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার অগ্রগতি, উপস্থিতি, ফলাফল এবং সার্বিক বিকাশ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়। প্রয়োজনে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হয়, যাতে তারা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারে।

উপজেলা সমাজসেবা অফিসার শাহাদৎ হোসেন বলেন, এতিম ও অসহায় শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিত করা টেকসই সামাজিক উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটির মতো সংগঠনগুলোর কার্যক্রম সমাজকল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। তিনি ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

জামালপুর জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সাংবাদিক ফজলে এলাহী মাকাম বলেন, একজন শিক্ষার্থীকে সহায়তা করা মানে একটি সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের ভিত্তি নির্মাণ করা। দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটি দীর্ঘদিন ধরে যে নীরব মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে, তা নিঃসন্দেহে অনুসরণযোগ্য। তিনি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে এতিম ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকের পক্ষ থেকেও দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। তারা বলেন, এ শিক্ষাবৃত্তি শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, বরং তাদের সন্তানদের শিক্ষা অব্যাহত রাখার অনুপ্রেরণা এবং একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখার সাহস জোগাচ্ছে।

আয়োজকরা জানান, দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটি দেশের বিভিন্ন জেলায় এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচি পরিচালনা করছে। বর্তমানে প্রতি মাসে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, অভিভাবকদের সঙ্গে সমন্বয়, প্রয়োজনীয় কাউন্সেলিং, দক্ষতা ও নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সংস্থার লক্ষ্য, একজন শিক্ষার্থী যেন শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করে আত্মনির্ভরশীল ও প্রতিষ্ঠিত নাগরিক হিসেবে সমাজে অবদান রাখতে পারে। সে লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদে তাদের পাশে থাকার অঙ্গীকার নিয়ে দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটি কাজ করে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটি এতিম, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে আসছে। শিক্ষা সহায়তা, স্বাস্থ্যসেবা, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন, গৃহায়ণ, মসজিদ ও মাদ্রাসা নির্মাণ, খাদ্য সহায়তা, দুর্যোগকালীন মানবিক সহায়তা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বিভিন্ন সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে সংস্থাটি দেশব্যাপী মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ভবিষ্যতেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আরও বেশি সংখ্যক এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের কাছে শিক্ষা সহায়তা পৌঁছে দিয়ে একটি শিক্ষিত, মানবিক ও আত্মনির্ভরশীল প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যে সংস্থাটি তার কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করবে।

আপনার মতামত লিখুন

 ‍SherpurTimes24

শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬


জামালপুরে ১৫০ এতিম শিক্ষার্থীদের মাঝে দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটির শিক্ষাবৃত্তি বিতরণ

প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটির উদ্যোগে জামালপুরে ১৫০ জন এতিম শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। কোনো শিশুই যেন আর্থিক সংকটের কারণে ঝরে না পড়ে এবং এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীরা যেন আত্মমর্যাদার সঙ্গে তাদের শিক্ষাজীবন এগিয়ে নিতে পারে এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এ কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের হাতে তিন মাসের শিক্ষাবৃত্তির অর্থ তুলে দেওয়া হয়।


৪ জুলাই (শনিবার) সকালে দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটির প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত শিক্ষাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর পরিচালক (যুগ্মসচিব) ব্যারিস্টার মো. খলিলুর রহমান খান, এনডিসি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জামালপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজনীন আখতার।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটির হেড অব অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড অ্যাডমিন কহিনুর আলম চৌধুরী, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার শাহাদৎ হোসেন এবং জামালপুর জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সাংবাদিক ফজলে এলাহী মাকাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংস্থার প্রজেক্ট ম্যানেজার আবুল কায়েস।

অনুষ্ঠানে ১৫০ জন এতিম শিক্ষার্থীর মাঝে তিন মাসের শিক্ষাবৃত্তির অর্থ হিসেবে মোট ১১ লাখ ২৫ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি তাদের অভিভাবক, সুধীজন, গণমাধ্যমকর্মী এবং দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার মো. খলিলুর রহমান খান বলেন, শিক্ষা একটি জাতির উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি। সমাজের পিছিয়ে পড়া ও এতিম শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিত করা কেবল সরকারের একার দায়িত্ব নয়; বরং সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর এ দায়িত্ব ভাগ করে নিতে হবে। তিনি বলেন, দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটি যে নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও মানবিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে এতিম শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজনীন আখতার বলেন, একটি শিশুর জীবনে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হলো তার শিক্ষা। আর্থিক সংকটের কারণে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ব্যাহত হওয়া উচিত নয়। তিনি বলেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি ও সামাজিক সংগঠনগুলোর এ ধরনের কার্যক্রম দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তিনি দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটির এ মানবিক উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

বক্তব্যে দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটির হেড অব অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড অ্যাডমিন কহিনুর আলম চৌধুরী বলেন, দোস্ত এইড বিশ্বাস করে—একজন শিশুকে শিক্ষিত করে তুলতে পারলে একটি পরিবার, এমনকি একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়া সম্ভব। তাই সংস্থাটি শুধু শিক্ষাবৃত্তি প্রদানেই সীমাবদ্ধ নয়; শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার অগ্রগতি, উপস্থিতি, ফলাফল এবং সার্বিক বিকাশ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়। প্রয়োজনে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হয়, যাতে তারা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারে।

উপজেলা সমাজসেবা অফিসার শাহাদৎ হোসেন বলেন, এতিম ও অসহায় শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিত করা টেকসই সামাজিক উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটির মতো সংগঠনগুলোর কার্যক্রম সমাজকল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। তিনি ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

জামালপুর জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সাংবাদিক ফজলে এলাহী মাকাম বলেন, একজন শিক্ষার্থীকে সহায়তা করা মানে একটি সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের ভিত্তি নির্মাণ করা। দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটি দীর্ঘদিন ধরে যে নীরব মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে, তা নিঃসন্দেহে অনুসরণযোগ্য। তিনি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে এতিম ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকের পক্ষ থেকেও দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। তারা বলেন, এ শিক্ষাবৃত্তি শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, বরং তাদের সন্তানদের শিক্ষা অব্যাহত রাখার অনুপ্রেরণা এবং একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখার সাহস জোগাচ্ছে।

আয়োজকরা জানান, দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটি দেশের বিভিন্ন জেলায় এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচি পরিচালনা করছে। বর্তমানে প্রতি মাসে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, অভিভাবকদের সঙ্গে সমন্বয়, প্রয়োজনীয় কাউন্সেলিং, দক্ষতা ও নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সংস্থার লক্ষ্য, একজন শিক্ষার্থী যেন শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করে আত্মনির্ভরশীল ও প্রতিষ্ঠিত নাগরিক হিসেবে সমাজে অবদান রাখতে পারে। সে লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদে তাদের পাশে থাকার অঙ্গীকার নিয়ে দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটি কাজ করে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটি এতিম, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে আসছে। শিক্ষা সহায়তা, স্বাস্থ্যসেবা, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন, গৃহায়ণ, মসজিদ ও মাদ্রাসা নির্মাণ, খাদ্য সহায়তা, দুর্যোগকালীন মানবিক সহায়তা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বিভিন্ন সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে সংস্থাটি দেশব্যাপী মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ভবিষ্যতেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আরও বেশি সংখ্যক এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের কাছে শিক্ষা সহায়তা পৌঁছে দিয়ে একটি শিক্ষিত, মানবিক ও আত্মনির্ভরশীল প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যে সংস্থাটি তার কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করবে।


 ‍SherpurTimes24


কপিরাইট © ২০২৬ ‍SherpurTimes24 । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত