শেরপুর     বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
 ‍SherpurTimes24

রিয়াদে সড়ক দুর্ঘটনায় শেরপুরের রানির মৃত্যু, লাশ আনতে পরিবারের আকুতি



রিয়াদে সড়ক দুর্ঘটনায় শেরপুরের রানির মৃত্যু, লাশ আনতে পরিবারের আকুতি
ছবি: প্রতিনিধি

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সড়ক দুর্ঘটনায় শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত মোঃ রনি মিয়া (২৮) উপজেলার সদর ইউনিয়নের দিঘীরপাড় গ্রামের মোঃ আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। গত ২১ এপ্রিল রিয়াদে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বর্তমানে তার মরদেহ সৌদি আরবের আল-হায়াত মেডিকেল হাসপাতালে সংরক্ষিত রয়েছে।

ঘটনার এক সপ্তাহের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও মরদেহ দেশে আনার কোনো সুরাহা না হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে পরিবারটি। এ অবস্থায় গত কাল ২৮ এপ্রিল মঙ্গলবার ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক বরাবর মরদেহ দেশে আনার জন্য আবেদন করেছেন নিহতের বড় ভাই প্রভাষক মো. মনিরুজ্জামান।

নিহতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাবা-মা, ভাই-বোন, স্ত্রী ও সন্তানদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। প্রিয়জনের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে শেষবারের মতো দেখার জন্য সরকারের কাছে আকুতি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

নিহতের বড় ভাই প্রভাষক মো. মনিরুজ্জামান জানান, রনি গ্রামের বাড়িতে নির্মাণশ্রমিকের কাজ করতেন, পাশাপাশি ব্যাটারিচালিত রিকশা চালাতেন। উন্নত জীবনের আশায় ২০২৪ সালে ফুড ডেলিভারি কাজে সৌদি আরবে যান তিনি। তবে যাওয়ার মাত্র দুই মাসের মাথায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়ে দেশে ফিরে আসেন।

পরবর্তীতে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে শ্রমিক ভিসায় আবারও একই কাজে সৌদি আরবে যান রনি। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস ফের মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাতেই গত ২১ এপ্রিল তার মৃত্যু হয়।

তিনি আরও জানান, ছোট ভাইকে বিদেশে পাঠাতে প্রথম দফায় পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকা খরচ করেন পরিবার। কিন্তু দুর্ঘটনায় আহত হয়ে দেশে ফিরে আসায় রনি কোনো টাকা পাঠাতে পারেননি। পরে আবার সৌদি যাওয়ার জন্য আরও প্রায় চার লাখ টাকা জোগাড় করে দেন তারা।

বর্তমানে মরদেহ দেশে আনার জন্য রনিকে যে কোম্পানি সৌদিতে নিয়ে গিয়েছিল, তাদের সুপারভাইজার এবং সৌদি থেকে মরদেহ হস্তান্তরের দায়িত্বে থাকা মো. আফতাব উদ্দিন নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন তারা। পরিবারের ভাষ্য, প্রিয়জনের মরদেহের জন্য অপেক্ষার চেয়ে কষ্টকর আর কিছু হতে পারে না।

নিহতের বাবা মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “ছেলের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে অনেক কষ্টে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। এখন তার মৃত্যুর খবর শুনতে হলো। আমরা তাকে জীবিত ফিরে পাব না, অন্তত তার মরদেহ যেন দেশে এনে নিজের হাতে দাফন করতে পারি এইটাই আমাদের শেষ চাওয়া।”

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. রকিব বাদশা বলেন, রনির মৃত্যুতে পুরো পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার মা-বাবা, স্ত্রী ও দুই সন্তান শেষবারের মতো মুখ দেখতে অপেক্ষা করছেন।

শেরপুর জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. লেহাজ উদ্দিন বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডে আবেদন করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে মরদেহ দেশে আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, মরদেহ দ্রুত দেশে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।

শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, সৌদি প্রবাসী রনির মরদেহ দ্রুত দেশে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। একই সঙ্গে তিনি নিহতের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

আপনার মতামত লিখুন

 ‍SherpurTimes24

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬


রিয়াদে সড়ক দুর্ঘটনায় শেরপুরের রানির মৃত্যু, লাশ আনতে পরিবারের আকুতি

প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সড়ক দুর্ঘটনায় শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত মোঃ রনি মিয়া (২৮) উপজেলার সদর ইউনিয়নের দিঘীরপাড় গ্রামের মোঃ আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। গত ২১ এপ্রিল রিয়াদে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বর্তমানে তার মরদেহ সৌদি আরবের আল-হায়াত মেডিকেল হাসপাতালে সংরক্ষিত রয়েছে।

ঘটনার এক সপ্তাহের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও মরদেহ দেশে আনার কোনো সুরাহা না হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে পরিবারটি। এ অবস্থায় গত কাল ২৮ এপ্রিল মঙ্গলবার ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক বরাবর মরদেহ দেশে আনার জন্য আবেদন করেছেন নিহতের বড় ভাই প্রভাষক মো. মনিরুজ্জামান।

নিহতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাবা-মা, ভাই-বোন, স্ত্রী ও সন্তানদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। প্রিয়জনের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে শেষবারের মতো দেখার জন্য সরকারের কাছে আকুতি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

নিহতের বড় ভাই প্রভাষক মো. মনিরুজ্জামান জানান, রনি গ্রামের বাড়িতে নির্মাণশ্রমিকের কাজ করতেন, পাশাপাশি ব্যাটারিচালিত রিকশা চালাতেন। উন্নত জীবনের আশায় ২০২৪ সালে ফুড ডেলিভারি কাজে সৌদি আরবে যান তিনি। তবে যাওয়ার মাত্র দুই মাসের মাথায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়ে দেশে ফিরে আসেন।

পরবর্তীতে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে শ্রমিক ভিসায় আবারও একই কাজে সৌদি আরবে যান রনি। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস ফের মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাতেই গত ২১ এপ্রিল তার মৃত্যু হয়।

তিনি আরও জানান, ছোট ভাইকে বিদেশে পাঠাতে প্রথম দফায় পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকা খরচ করেন পরিবার। কিন্তু দুর্ঘটনায় আহত হয়ে দেশে ফিরে আসায় রনি কোনো টাকা পাঠাতে পারেননি। পরে আবার সৌদি যাওয়ার জন্য আরও প্রায় চার লাখ টাকা জোগাড় করে দেন তারা।

বর্তমানে মরদেহ দেশে আনার জন্য রনিকে যে কোম্পানি সৌদিতে নিয়ে গিয়েছিল, তাদের সুপারভাইজার এবং সৌদি থেকে মরদেহ হস্তান্তরের দায়িত্বে থাকা মো. আফতাব উদ্দিন নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন তারা। পরিবারের ভাষ্য, প্রিয়জনের মরদেহের জন্য অপেক্ষার চেয়ে কষ্টকর আর কিছু হতে পারে না।

নিহতের বাবা মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “ছেলের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে অনেক কষ্টে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। এখন তার মৃত্যুর খবর শুনতে হলো। আমরা তাকে জীবিত ফিরে পাব না, অন্তত তার মরদেহ যেন দেশে এনে নিজের হাতে দাফন করতে পারি এইটাই আমাদের শেষ চাওয়া।”

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. রকিব বাদশা বলেন, রনির মৃত্যুতে পুরো পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার মা-বাবা, স্ত্রী ও দুই সন্তান শেষবারের মতো মুখ দেখতে অপেক্ষা করছেন।

শেরপুর জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. লেহাজ উদ্দিন বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডে আবেদন করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে মরদেহ দেশে আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, মরদেহ দ্রুত দেশে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।

শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, সৌদি প্রবাসী রনির মরদেহ দ্রুত দেশে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। একই সঙ্গে তিনি নিহতের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।


 ‍SherpurTimes24


কপিরাইট © ২০২৬ ‍SherpurTimes24 । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত